ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে দিল্লিতে আটক হলেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এই আন্দোলনকে ঘিরেই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির সংসদ সদস্য ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। আন্দোলনকারীদের ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভের আড়ালে ভারতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কেন এত বড় আকার নিল? আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিতে কেন মোতায়েন করা হলো বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী?
শনিবার ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন কঙ্গনা রানাউত। তাঁর অভিযোগ, দেশের মানুষ এখন এসব শক্তিকে প্রকাশ্যে চিহ্নিত করছে। পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তাদের ধরে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে আন্দোলন মোকাবিলার সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন কঙ্গনা। তাঁর ভাষ্য, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন শক্তি কাজ করছে। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে সাধারণ নাগরিকরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
লখনৌ পৌঁছে অযোধ্যায় যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। কঙ্গনা জানান, রামলালার দর্শন ও প্রার্থনার জন্য অযোধ্যার রামমন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তিনি হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। এদিকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শনিবার দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং অনেক ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এই দাবিকে সামনে রেখে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। তবে সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগেই দলটির শীর্ষ নেতাদের আটক করে পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন দিল্লিজুড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। অন্য একটি হিসাবে আটকের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। পরে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের পাশাপাশি চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি এবং আন্দোলনকারীদের নিয়ে কঙ্গনা রানাউতের কঠোর মন্তব্য—সবকিছু মিলিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এবং কঙ্গনার পাল্টা বক্তব্য—দুটিই রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।