এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও, নকল কণ্ঠে ছড়ানো মিথ্যা বক্তব্য কিংবা কারও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা—এসবের বিরুদ্ধে

এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও নিয়ে সতর্ক করলেন শায়খ সুদাইস

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:২০ সময় , আপডেট সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:২০ সময়

এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও, নকল কণ্ঠে ছড়ানো মিথ্যা বক্তব্য কিংবা কারও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা—এসবের বিরুদ্ধে এবার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষকে প্রতারিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি, কণ্ঠ নকল করা এবং মিথ্যা বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী নিষিদ্ধ। তবে তিনি প্রযুক্তির বিরোধিতা করেননি; বরং এর দায়িত্বশীল ও কল্যাণকর ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষ করে এআইয়ের সাহায্যে বাস্তব মানুষের মতো দেখতে ভিডিও তৈরি করা, কারও কণ্ঠ হুবহু নকল করা কিংবা এমন বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া, যা ওই ব্যক্তি কখনো বলেননি—এসবের মাধ্যমে সহজেই মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস।


তিনি বলেছেন, প্রযুক্তির সাহায্যে কাউকে ধোঁকা দেওয়া, অন্যের পরিচয় ধারণ করা কিংবা কারও নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা ইসলামী শরিয়াহর দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ কাজের অন্তর্ভুক্ত। এসব কর্মকাণ্ডকে মিথ্যাচার ও প্রতারণার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করে তিনি মুসলিমদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে শায়খ সুদাইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে সরাসরি নিন্দা করেননি। আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে তিনি মহান আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, প্রযুক্তি নিজে নয়, বরং সেটি কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের উপকার, জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং জনকল্যাণমূলক কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা উচিত।


একই সঙ্গে যাচাই না করে তথ্য প্রচারের ক্ষতিকর দিক নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ভিত্তিহীন তথ্য ও গুজব মানুষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে, পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে। এর ফলে সমাজে মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাসও দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও বা অডিও দেখেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া দৃশ্য কিংবা নকল কণ্ঠ অনেক সময় আসল বলে মনে হতে পারে। তাই কোনো তথ্য অন্যের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে কারও ছবি, কণ্ঠ বা পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন।


সব মিলিয়ে, শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসের এই সতর্কবার্তার মূল কথা—প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিক দায়িত্বও বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হলে তা উপকারী হতে পারে, কিন্তু প্রতারণা, মিথ্যাচার ও গুজব ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯