জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শরীফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র বিতর্কের মুখে

‘হু ইজ হাদি?’: নুরের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা রফিকুল ইসলাম মাদানির

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩১ সময় , আপডেট সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩১ সময়

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শরীফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তাঁর ‘হু ইজ হাদি?’ মন্তব্যের জবাবে এবার সরব হয়েছেন ইসলামী বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি। ব্যক্তিগতভাবে নুরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকার কথা জানিয়ে মাদানি বলেছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে দেশ, আদর্শ ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই তাঁর কাছে বড়। তাহলে হাদিকে নিয়ে নুরের মন্তব্যে কেন এতটা ক্ষুব্ধ হলেন তিনি?


সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনায় নুরুল হক নুর বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শরীফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা উচিত হয়নি। ভবিষ্যতে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। এরপর নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান রফিকুল ইসলাম মাদানি। তিনি লেখেন, ২০১৯-২০ সাল থেকেই নুরুল হক নুরের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। এমনকি মোদিবিরোধী আন্দোলনেও তাঁরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে শরীফ ওসমান হাদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ না থাকলেও দেশের পক্ষে অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে হাদির অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি।


মাদানির বক্তব্য, ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে আদর্শ, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সত্যের পক্ষে থাকা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই নুরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও হাদির কবর নিয়ে তাঁর এমন মন্তব্য মেনে নিতে পারেননি বলে জানান এই ইসলামী বক্তা। নুরের ‘হু ইজ হাদি?’ প্রশ্নের জবাবে মাদানি আবেগঘন ভাষায় হাদির ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁর বর্ণনায়, হাদি ছিলেন দেশপ্রেমিক তরুণদের জাগিয়ে তোলার অনুপ্রেরণা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক এবং কৃষক, শ্রমিক, আলেম-ওলামা ও দিনমজুরের বঞ্চনা ও কষ্টের কথা তুলে ধরা এক প্রতিবাদী কণ্ঠ।


তিনি আরও বলেন, শত্রুর সঙ্গেও ন্যায়বিচারের কথা বলা এবং নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করার মধ্য দিয়ে হাদি হার না-মানা তারুণ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। মাদানির অভিযোগ, একসময় নুরুল হক নুরের দুর্দিনেও হাদি তাঁর পক্ষে প্রতিবাদ করেছিলেন। অথচ তাঁর মৃত্যুর পর সমাধিস্থলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে উদ্দেশ করে মাদানি আরও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, একসময় নুরকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতেন অনেকে। কিন্তু বর্তমানে নুরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। এমনকি তাঁর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করেন মাদানি।


এ ছাড়া রাজনৈতিক স্বার্থে নুর ও রাশেদকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, অর্থ ও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকে স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন মন্তব্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পোস্টের শেষাংশে মাদানি বলেন, ক্ষমতা ও অর্থ স্থায়ী নয়; মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হলে মানুষের অধিকার আদায়ে পাশে দাঁড়াতে হয়। তাঁর মতে, শরীফ ওসমান হাদি নিজের জীবন দিয়ে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন, আর ক্ষমতার মোহে নুর সেই ভালোবাসা হারাচ্ছেন।


তবে পুরো বিষয়টি এখন পর্যন্ত নুরুল হক নুরের বক্তব্য এবং রফিকুল ইসলাম মাদানির পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। সমাধিস্থল নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি দুই রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যক্তিত্বের অবস্থান ও বক্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯