ভারতের মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায়

মণিপুরে ফের সহিংসতা, নিহত ৫, পুড়ল ৩০ বাড়ি-দোকান

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময় , আপডেট সময় : ১১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৪ সময়

ভারতের মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচজন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় জমায়েত ও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সংঘর্ষে প্রাণহানির পাশাপাশি বাড়িঘর ও দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর শনিবার মণিপুরের কামজং ও উখরুল জেলায় এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কামজং জেলায় চারজন এবং পার্শ্ববর্তী উখরুল জেলায় একজন নিহত হয়েছেন। তবে এসব হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।


কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় গুলিতে নিহত হন ২৩ বছর বয়সী মাইকেল এনগাম্মিনলেন হাওকিপ। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। একই এলাকায় শুক্রবার রাতেও ঘটে প্রাণঘাতী হামলা। রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ডমখোনেই তোউথাং নামের এক কুকি নারী। পাঁচ সন্তানের জননী ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।


অন্যদিকে, উখরুল জেলার টিএম কাসোমের কাছে ইয়াওলেন এলাকায় অতর্কিত হামলায় নিহত হন ৪০ বছর বয়সী সন্দীপ রাই। তিনি চার চাকার একটি গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিরা গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।


এ ছাড়া কামজং জেলার ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নিংচৌ গ্রামে শনিবার সকালে গুলিতে নিহত হন দুই নাগা গ্রামবাসী। তাঁদের নাম এনগাচানসো নিংশেন, বয়স ৩৫ বছর, এবং লেইশিশান লেইশাদাং, বয়স ৪৮ বছর। তবে তাঁদের ওপর কারা হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


সহিংসতার পাশাপাশি চাসাদ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। অন্তত ১০টি বাড়ি ও ২০টি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কতজন বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কামজং জেলা প্রশাসন চাসাদ পুলিশ গেট জংশনের আশপাশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। গত ৯ অক্টোবর জারি করা আদেশে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এল এন কাশুং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করেন। এর আওতায় ওই জংশনের ৪০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, অস্ত্র বহন এবং বাড়ির বাইরে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। তবে নিরাপত্তাকর্মী, দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেট, জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি এবং বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে।


এদিকে, সহিংসতার প্রতিবাদে কাঙপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার সম্পূর্ণ বন্ধের ডাক দিয়েছে আদিবাসী ঐক্য কমিটি। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে জরুরি চিকিৎসাসেবাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। চাসাদ, উখরুল জেলার ইয়াওলেন এবং ইম্ফল-তেংনৌপাল সড়ক এলাকায় হামলার অভিযোগ তুলে সংগঠনটি এই কর্মসূচি ঘোষণা করে।


অন্যদিকে, ডমখোনেই তোউথাং ও মাইকেল এনগাম্মিনলেন হাওকিপের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে কুকি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের, ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের একটি নিরাপত্তাচৌকি সরিয়ে নেওয়া এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।


সব মিলিয়ে, মণিপুরের কামজং ও উখরুল জেলায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রাণহানি, অগ্নিসংযোগ ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। হামলার পেছনের কারণ ও দায়ীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯