গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হলে শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, বরং তৃণমূল থেকেই জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনা, ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং মানুষের কল্যাণকে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা—এসব বিষয়েই গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, রাজনীতি কখনোই শুধু ক্ষমতা অর্জনের হাতিয়ার হতে পারে না; রাজনীতির প্রকৃত উদ্দেশ্য হতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের সেবা নিশ্চিত করা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনের অফিসকক্ষে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় খান ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা না গেলে জাতীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র কার্যকর করা কঠিন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন আয়োজনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ভোটাররা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়ে আবদুল মঈন খান বলেন, নির্দলীয় নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমাতে সহায়তা করতে পারে। নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।
সমাজের উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য কমানো এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সরকার ও এসব সংস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবেন।
আলোচনাসভায় দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. অভিনয় চন্দ্র সাহা, খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা খাতুন, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং খান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।