দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালে সৌদি আরব ও আবুধাবি থেকে ১৪ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করার জন্য সৌদি আরবের সৌদি আরামকো এবং আবুধাবির এডনক থেকে এই তেল সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানি করা হবে এসব অপরিশোধিত তেল। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব ও আবুধাবি থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ আমদানির অর্থায়নে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বাণিজ্য অর্থায়ন সংস্থার ঋণ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন দীর্ঘদিন ধরেই সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরামকো ও এডনক থেকে অপরিশোধিত তেল এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করে আসছে। বৈঠকে জানানো হয়, ইস্টার্ন রিফাইনারির পুরোনো পরিশোধনাগারে সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট এবং আবুধাবির মারবান অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী ও লাভজনক। এ ছাড়া দেশের চাহিদা অনুযায়ী অন্য কোনো দেশ বা সরবরাহকারীর কাছ থেকে একই ধরনের অপরিশোধিত তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তাই রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থ বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার-টু-সরকার প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানির আরেকটি প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কমিটি প্রস্তাবটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে দরপত্র প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার সময় ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিন করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এদিকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোট আটটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার সংশোধিত মূল্যহার অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৭ মার্কিন সেন্ট, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ টাকা ৫৪ পয়সা।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথকে দ্বৈত গেজে রূপান্তর প্রকল্পের নির্মাণ ও তদারকি কাজের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় মরক্কোর একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ৮৬৬ মার্কিন ডলার দরে এ সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৪২৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর পাশাপাশি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের একটি প্যাকেজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের কাজেও ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
রাজশাহীতে বিভিন্ন সুবিধাসহ ১ হাজার ২০০ শয্যার ১১ তলা রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্লিনিক্যাল অনুষদ ভবন নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার এবং বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য পৃথক দুটি প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
সূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয়।