একসঙ্গে ১৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত—বিদ্যুৎ, রেল, সড়ক, নগর অবকাঠামো থেকে শুরু করে গ্রামীণ উন্নয়ন, একনেকের অনুমোদন পাওয়া ১৩ প্রকল্পে বদলে যেতে পারে দেশের বিভিন্ন এলাকার চিত্র। এর মধ্যে রয়েছে রামপালে বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলওয়ের জন্য ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ এবং ঢাকা, গাজীপুর ও রংপুরের ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন। কিন্তু কোন প্রকল্পে কত টাকা যাচ্ছে? বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনীতে। এতে আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রামপালে নির্মাণ করা হবে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি থাকবে প্রকল্প ঋণ। নগর উন্নয়নেও বড় বরাদ্দ রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচ অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নে ব্যয় হবে প্রায় ৭৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। আর রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে আরও ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বড় প্রকল্প। পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। এ ছাড়া প্যারিসে বাংলাদেশের চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি টাকা, পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রায় ১৮৫ কোটি টাকার প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতে ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ২ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। বান্দরবানের থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে এবং মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, একনেকে অনুমোদিত এই ১৩ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন, রেল যোগাযোগ, নগর অবকাঠামো, গ্রামীণ সড়ক, সেতু, নৌপরিবহন ও দক্ষতা উন্নয়ন—বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এখন বড় প্রশ্ন, বিপুল এই অর্থের প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় কি না।