ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে কী হতে পারে? এবার সরাসরি রাজধানী অবরুদ্ধ

অটোরিকশা বন্ধ হলে ঢাকা অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:২৭ সময় , আপডেট সময় : ৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১০:২৭ সময়

ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে কী হতে পারে? এবার সরাসরি রাজধানী অবরুদ্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক ও শ্রমিক নেতারা। শুধু তাই নয়, রিকশার চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। ফলে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।


সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। পরে বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল নিয়ে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে প্রেস ক্লাব ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ চলাকালে কাকরাইল মোড়ে সদরঘাট-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী একটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে বাসের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরাও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আন্দোলন ছেড়ে অটোরিকশা চালিয়ে সড়ক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েকজন চালককে আন্দোলনকারীরা মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।


বিক্ষোভে চালকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের মূল দাবি ছিল, ব্যাটারিচালিত রিকশা একেবারে বন্ধ না করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের বৈধ লাইসেন্স দিতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত এলাকায় চলাচলের জন্য রোড পারমিটের ব্যবস্থা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা মালিকদের রিকশা যাচাই করে বৈধতার সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানান তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, শুধু ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স দেওয়া হলে প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত চালককে আলাদা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈধ ও অবৈধ যানবাহন শনাক্ত করাও সহজ হবে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট রুট, সময় ও নিয়মের মধ্যে এসব যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব।


আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে পুলিশ। অনেক ক্ষেত্রে রিকশা জব্দ করে ডাম্পিং করা হচ্ছে এবং পাঁচ হাজার টাকা করে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। যেসব সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতি রয়েছে, সেসব সড়কে তাদের চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান চালকরা।


সমাবেশে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এ আবু বকর বলেন, অনেক চালক ও ক্ষুদ্র মালিক ঋণ করে রিকশা কিনেছেন। কারও কারও ঋণের পরিমাণ ৬৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। তাই ডাম্পিংয়ের নামে নির্বিচারে গাড়ি জব্দ করা হলে এসব পরিবারের জীবিকা বড় ধরনের সংকটে পড়বে। তিনি বলেন, অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু ডাম্পিংয়ের নামে হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। সরকার যদি তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তারা সহযোগিতা করবেন। তবে মতামত উপেক্ষা করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।


একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের জন্য কর্মীদের সতর্ক করেন নেতারা। অবরোধে অংশ নেওয়া চালকদের অভিযোগ, চার্জ দেওয়ার জায়গাগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণেও তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবি, রিকশা বন্ধের পাশাপাশি চার্জিং ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হলে তাদের জীবিকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।


মালিক-শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, দেশে লাখ লাখ মানুষ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। হঠাৎ করে এসব যান বন্ধ করে দিলে বিপুলসংখ্যক মানুষের পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তাই অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যেসব যান বৈধতার সুযোগ পেতে পারে, সেগুলোকে নিবন্ধন ও রোড পারমিট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের প্রস্তাব—প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স, নির্দিষ্ট রুট ও নির্দিষ্ট সময়ের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এতে একদিকে চালকদের জীবিকা রক্ষা হবে, অন্যদিকে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনাতেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।


তবে আন্দোলনের সময় বাস ভাঙচুর ও চালকদের মারধরের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নেতারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথা বললেও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হলে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সবশেষে মালিক-শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ বা নির্বিচারে ডাম্পিং অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনে ঢাকা অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে। আর চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করা হবে। তাদের দাবি, সংঘাত নয়—আলোচনার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার বৈধতা, চালকদের অধিকার এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯