চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যের নতুন অধ্যায়ে এবারও স্বস্তি পেলেন না মামলার অন্যতম আসামি ও খলচরিত্রের অভিনয়শিল্পী আশরাফুল হক ওরফে ডন। সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে জামিনের পক্ষে শুনানি করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্থা একাধিকবার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। এসব প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, মামলাটি পাঁচবার তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু কোনো তদন্তেই অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুনানির সময় তিনি সালমান শাহর ময়নাতদন্ত ও চিকিৎসকের প্রতিবেদনও আদালতে উপস্থাপন করেন। এসব যুক্তি দেখিয়ে ডনের জামিন আবেদন করেন তিনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা এবং মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জামিন দেওয়া উচিত নয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে রাখার আদেশ দেন। এর আগে গত ৯ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১২ আগস্ট তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে সেটিও নামঞ্জুর করেন আদালত। এরপর ২৭ আগস্ট আদালত ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে বিতর্ক ও তদন্ত চলেছে। সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর ২০২৫ সালে আদালত এ ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। এরপর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।