পাবনার সাঁথিয়ায় একটি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গিয়ে ছাত্রদল ও শিবির সমর্থকের মধ্যে হাতাহাতি থেকে শুরু হয় মারামারি।

পাবনায় শিবির-ছাত্রদল কর্মীদের মারামারিতে আহত ৩, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৪ সময় , আপডেট সময় : ৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ৩:৪ সময়

পাবনার সাঁথিয়ায় একটি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গিয়ে ছাত্রদল ও শিবির সমর্থকের মধ্যে হাতাহাতি থেকে শুরু হয় মারামারি। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। পরে এক পক্ষের বিক্ষোভ মিছিল, অন্য পক্ষের থানায় অবস্থান—সব মিলিয়ে এলাকায় তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন। শনিবার বিকেলে সাঁথিয়া পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে জামায়াত-শিবির সমর্থক আতিক ফকির এবং সাঁথিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ও জিহাদ মল্লিক মোটরসাইকেলে তেল নিতে পেট্রোল পাম্পে যান। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। ঘটনায় তিনজনই আহত হন। পরে তারা সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।


এরপর আতিক ফকিরকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ তুলে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাঁথিয়া পৌর সদরের গার্লস স্কুলের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তিনমাথা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত পথসভায় পৌর জামায়াত নেতা নজরুল, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি তাজুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের নেতা শিখন মোল্লা ও সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন। তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলার বিচার দাবি করেন।


অন্যদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা অভিযোগ এনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও থানায় অবস্থান নেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শাহ আলম ও জিহাদ পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গেলে শিবির সমর্থক আতিক ফকির তাদের ওপর হামলা চালান। তাদের মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।


সাঁথিয়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. জীবন বলেন, আহত দুই ছাত্রদল নেতা চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে আবারও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে তারা থানায় গিয়ে অবস্থান নেন। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।


তবে ছাত্রদলের অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে জামায়াত-শিবির। জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমাজসেবা সম্পাদক শিখন মোল্লা দাবি করেন, আতিক ফকির পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গেলে ছাত্রদলের কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। হাতুড়ি দিয়ে মারধরের কারণে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। ঘটনার পর বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা থেকে এর নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।


এদিকে ঘটনাটির তদন্তে পেট্রোল পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ফুটেজে দেখা গেছে, তেল নিতে যাওয়া দুই ছাত্রদল নেতার ওপর আতিক ফকির হামলা ও মারধর শুরু করেন। পরে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মোট তিনজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।


ওসি আরও জানান, জামায়াত-শিবিরের শোডাউনের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯