তদন্ত হয়েছে, অনিয়মের তথ্যও বের হয়েছে—কিন্তু বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন। এমনই চিত্র

অনিয়মের তদন্ত হলেও প্রতিবেদন দাখিল হয়নি ৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময় , আপডেট সময় : ৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৩৮ সময়

তদন্ত হয়েছে, অনিয়মের তথ্যও বের হয়েছে—কিন্তু বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন। এমনই চিত্র বেসরকারি এমপিওভুক্ত ৪ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে। পাঁচ থেকে দশ বছর আগে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিরীক্ষা ও তদন্ত করলেও এখনো অনেক প্রতিবেদন আটকে আছে। আর এর পেছনে একশ্রেণির কর্মকর্তার অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিক্ষা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মূল দায়িত্ব হলো স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা এবং বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত করা। কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষা ও তদন্ত করলেও সেগুলোর বড় একটি অংশের প্রতিবেদন সময়মতো জমা দেননি। জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডিআইএর কর্মকর্তারা ৪ হাজারের বেশি নিরীক্ষা ও তদন্ত পরিচালনা করেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার তদন্ত অনলাইনে এবং বাকি কাজ সরেজমিনে করা হয়। কিন্তু ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের অনেক তদন্তের প্রতিবেদনও দীর্ঘদিন জমা হয়নি। কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে দশ বছর পেরিয়ে গেলেও ফাইল পড়ে রয়েছে।


এ ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে ৪০ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ার পরও কারও বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। আটকে থাকা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য গত ২০ আগস্ট ৪০ পরিদর্শককে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুন জানিয়েছেন, কয়েকজন পরিদর্শক তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিয়েই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর কিছু প্রতিবেদন হালনাগাদ করে জমাও দেওয়া হয়েছে। পুরোনো প্রতিবেদনগুলো যাচাই করে নিষ্পত্তি এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।


তবে তদন্ত প্রতিবেদন আটকে থাকার পেছনে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়মে জড়িত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে একবারে নয়, অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর কিস্তিতে অর্থ নেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম থাকলে সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে চাপ তৈরি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।


কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, জাল সনদ, নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রশাসনিক ত্রুটি খুঁজে বের করে অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদন না দিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী ঘুষের অঙ্ক নির্ধারণ করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম না থাকলেও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


গত এক দশকে ডিআইএতে এমন ১০ হাজারের বেশি ফাইলের সন্ধান পাওয়ার কথাও উঠে এসেছে, যেখানে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগ এবং জাল সনদ শনাক্তের মতো বিষয়গুলোতে অনিয়মের সুযোগ বেশি থাকায় সেসব ক্ষেত্রেই কর্মকর্তাদের বেশি আগ্রহ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।


ডিআইএ কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, পুরোনো তদন্তগুলো এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেসব কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা না দিয়ে বদলি হয়েছেন, তাদেরও চিঠি দিয়ে জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খুঁজে বের করার দায়িত্ব যাদের, তাদের বিরুদ্ধেই যদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং বছরের পর বছর তদন্ত প্রতিবেদন আটকে থাকে, তাহলে পুরো তদারকি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাদের মতে, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯