ফিটনেসবিহীন গাড়ি বাতিল বা স্ক্র্যাপ করার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন কোনো গাড়ি এক বছরের বেশি সময়

পাঁচ বছর ফিটনেসবিহীন থাকলেও গাড়ি বাতিল নয়

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময় , আপডেট সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময়

ফিটনেসবিহীন গাড়ি বাতিল বা স্ক্র্যাপ করার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন কোনো গাড়ি এক বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলেই সেটি স্ক্র্যাপযোগ্য হবে না। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলেই গাড়িটি স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে। তবে এই পরিবর্তন নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ‘মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আগের নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপযোগ্য হওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ক্র্যাপিংয়ের বিভিন্ন ধাপ দ্রুত করার বিধান রাখা হয়েছে।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন নীতিমালায় সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে এক বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলে গাড়ি স্ক্র্যাপ করার সুযোগ ছিল। এখন সেই সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। তবে শুধু সময়সীমাই পরিবর্তন করা হয়নি। নতুন নীতিমালায় স্ক্র্যাপিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আগে নির্ধারিত ভেন্ডরের মাধ্যমে গাড়ি স্ক্র্যাপ করার বিধান থাকলেও এখন ভেন্ডর পাওয়া না গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এই কাজে যুক্ত করা যাবে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্ক্র্যাপিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।


অন্যদিকে, গাড়ি স্ক্র্যাপযোগ্য হওয়ার সময় বাড়লেও স্ক্র্যাপিং প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সময় কমানো হয়েছে। কোনো স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ি পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আটক করলে মালিককে নোটিশ দেওয়ার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হয়েছে। স্ক্র্যাপিংয়ের সময় ৩০ কার্যদিবস থেকে কমিয়ে ১৫ কার্যদিবস করা হয়েছে। আর স্ক্র্যাপিং শেষ হওয়ার পর সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র সাত দিন করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় শুধু দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন গাড়িই নয়, আরও কয়েক ধরনের যানবাহন স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে। অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়া, চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া, দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে মেরামতের অযোগ্য হওয়া, অনুমোদন ছাড়া তৈরি বা পরিবর্তন করা এবং নির্ধারিত মাত্রার বেশি দূষণকারী গাড়িও স্ক্র্যাপ করা যাবে।


স্ক্র্যাপিংয়ের সময় গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর এমনভাবে নষ্ট করার বিধান রয়েছে, যাতে সেগুলো অন্য কোনো গাড়িতে পুনরায় ব্যবহার করা না যায়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন বাতিল করা হবে এবং মালিককে দেওয়া হবে ‘যানবাহন স্ক্র্যাপিং সনদ’। তবে এক বছর থেকে পাঁচ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর মতে, সময়সীমা পাঁচ বছর করায় পরিবহন মালিকদের দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে এসব গাড়ি সড়কে চলাচলের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


অন্যদিকে, সরকারি ব্যাখ্যা হলো—ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপের সময়সীমা বাড়ানো হলেও পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। ভেন্ডর না থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে কাজে লাগানোর সুযোগ এবং দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো, পাঁচ বছর পর্যন্ত ফিটনেসবিহীন গাড়িকে স্ক্র্যাপের বাইরে রাখার নতুন নিয়ম সড়কে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের সংখ্যা কমাবে, নাকি দীর্ঘদিন এসব গাড়ি ধরে রাখার সুযোগ তৈরি করবে—তা নির্ভর করবে নতুন নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ ও নজরদারির ওপর।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯