দেশে ভেজাল খাদ্যের ভয়াবহতা যেন দিন দিন আরও বাড়ছে। জেল-জরিমানা এবং নিয়মিত অভিযান চললেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না

ভেজাল খাদ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি উদ্বেগ চিকিৎসকদের

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময় , আপডেট সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৪ সময়

দেশে ভেজাল খাদ্যের ভয়াবহতা যেন দিন দিন আরও বাড়ছে। জেল-জরিমানা এবং নিয়মিত অভিযান চললেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বিষাক্ত ও ভেজাল খাবারের ব্যবহার। আর এসব খাবার দীর্ঘদিন গ্রহণের ফলে বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকদের উদ্বেগ, এর প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নয়, গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান মেশানো খাবারের কারণে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে গর্ভাবস্থায় এসব খাবার গ্রহণ করলে গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জন্মগত ত্রুটির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।


সম্প্রতি বিরানিতে রাসায়নিক পদার্থ, অপরিশোধিত লবণ, কাপড় তৈরির রং এবং পোড়া তেল ব্যবহারের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। জনপ্রিয় এই খাবারটি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ খেয়ে থাকেন। ফলে খাবারে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ভেজাল খাবার গ্রহণের ফলে কিডনি ও লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মতো জটিল রোগের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও গর্ভের শিশুর জন্য এসব খাবার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।


ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি বলেন, রাসায়নিক পদার্থ, রং ও নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা খাবার গর্ভবতী নারীরা গ্রহণ করলে গর্ভের শিশুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে জন্মগত ত্রুটি, লিভার ও কিডনির বিভিন্ন সমস্যা এবং অন্যান্য জটিলতা নিয়ে শিশুর জন্মের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শফি আহমেদ মোয়াজও জন্মগত ত্রুটির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার মতে, ভেজাল খাবার গ্রহণের ফলে পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি, লিভার ও কিডনির জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমনকি শিশুদের স্মরণশক্তির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এদিকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীসহ সারাদেশে খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ লাখের বেশি খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাতকারীর তালিকা রয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভেজাল খাদ্য তৈরি ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করে ভেজাল খাদ্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অতি মুনাফার আশায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করছেন। তাই আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসচেতনতা এবং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।


খাদ্যে ভেজাল নিয়ে দেশে এর আগেও বড় ধরনের সচেতনতা তৈরি হয়েছিল। ২০০৫ সাল থেকে দুই বছর ধরে খাদ্যে ভেজাল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ফলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ খাবার যদি মানুষের সুস্থতার বদলে অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে শুধু হাসপাতাল বাড়িয়ে এই সংকটের সমাধান করা কঠিন। খাদ্য উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হতে পারে এই ঝুঁকি কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯