দেশের ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে চলতি বছরের মধ্যে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসছেন। এর মধ্যে ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবেন। বুধবার ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ডের প্রাক-পাইলট কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর চলতি বছর পাইলট পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষকের তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। এর মধ্যে ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক মুদ্রিত কৃষক কার্ড পাবেন। আগামী ১ অক্টোবরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে এবং বাকি ৬৪টি উপজেলাও অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা আরও সহজে ও সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক বলেও জানান তিনি। এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।