যুদ্ধের প্রভাব এবার ইরানের ওষুধের বাজারেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবহন ও আর্থিক লেনদেনে

ইরানে ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া, রোগীরা বিপাকে

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:২১ সময় , আপডেট সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:২১ সময়

যুদ্ধের প্রভাব এবার ইরানের ওষুধের বাজারেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবহন ও আর্থিক লেনদেনে নানা বাধার কারণে দেশটির ওষুধ শিল্প চাপে পড়েছে। এর প্রভাবে কিছু ওষুধের দাম তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে, আবার কিছু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী খুঁজে পেতে রোগীদের একাধিক ফার্মেসিতে ঘুরতে হচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সাত মাসের মধ্যে ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বেড়েছে। বেকারত্ব বৃদ্ধি, মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার মধ্যেই ওষুধের সংকট নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানের ওষুধ শিল্প অনেকটাই আমদানিনির্ভর। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলেও এসব ওষুধ তৈরিতে প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।


তেহরান ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য বাহমান সাবুর জানান, যুদ্ধের আগে ওষুধ ও ঔষধি উপাদানের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথে ইরানে আসত। কিন্তু নৌ-অবরোধের কারণে সেই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমদানিকারকরা আকাশপথে পণ্য আনার চেষ্টা করেন। তবে ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে সেই পথও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এতে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ওষুধ ও কাঁচামাল সরবরাহ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।


যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজা মাজেদজাদেহ বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো সরাসরি ওষুধকে লক্ষ্য করে দেওয়া না হলেও দীর্ঘদিনের আর্থিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে ইরানের সঙ্গে লেনদেন করতে অনেক সময় অনীহা দেখায়। এর ফলে কাগজে-কলমে কোনো ওষুধ বিক্রি বৈধ হলেও বাস্তবে অর্থ পরিশোধ, পরিবহন কিংবা সরবরাহের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে।


তেহরানের বাসিন্দা গোলামরেজা রহমানি সম্প্রতি তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ের জন্য চার ধরনের ওষুধ কিনতে দুই দিন ধরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে ঘুরেছেন। তাঁর ভাষ্য, একেকটি ফার্মেসিতে এক বা দুটি ওষুধ পাওয়া গেলেও সবগুলো একসঙ্গে পাওয়া যায়নি। একটি ওষুধ তিনি কোথাও খুঁজে পাননি। ওষুধ খুঁজতে গিয়ে দুই দিন কাজে যেতে না পারায় তাঁর আয়ও কমেছে। শুধু সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যাই নয়, যুদ্ধের কারণে উৎপাদন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বিমান হামলায় ৪০টির বেশি ওষুধ কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ প্রস্তুতকারী কারখানাও রয়েছে। তবে উৎপাদন কতটা কমেছে, সে বিষয়ে সরকার কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।


অন্যদিকে অর্থের সংকটে থাকা ফার্মেসিগুলোও পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রাখতে পারছে না। ইরানের সংসদীয় স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জামালিয়াটের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমা কোম্পানিগুলো ফার্মেসিগুলোর ওষুধের বিল পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বিল পরিশোধে নয় মাস পর্যন্ত দেরি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ইরানের হাসপাতালগুলোতে বড় ধরনের ওষুধ সংকটের ব্যাপক লক্ষণ না থাকলেও সাধারণ ফার্মেসিগুলোতে সংকট ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, সরবরাহ ব্যবস্থার বাধা এবং অর্থনৈতিক চাপ একসঙ্গে দেশটির ওষুধ খাতের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সূত্র: এপি

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯