কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউ। বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনাটি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘বিএফআইইউ-দুদক-মামলা-ন্যারেটিভ-পারসেপশন-হয়রানি’—এভাবে ঘটনাগুলো এগোচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভুক্তভোগীদের প্রতিবাদ না করার একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিএফআইইউ কেন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কারণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হয়েছে—এটি কোনো ব্যক্তি আর্থিক অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়; প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবেও এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে এবং এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
হামলার পর সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেন। অন্যদিকে এনসিপির নেতারাও তাঁর স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানান। আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলার প্রতিবাদ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। এদিকে স্টুডিওতে হামলার কারণ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যও সামনে এসেছে। সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে জমি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
এখন সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের কারণ এবং এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক স্টুডিও হামলার সঙ্গে ব্যাংক হিসাব তলবের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করবে।