শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত চায় এবং এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সরকার বিষয়টিকে মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় ইস্যু হিসেবে দেখছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। এর আগে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে তাঁর বৈঠকেও শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতের রায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিষয়ও ভারতকে ফেরত দেওয়ার আলোচনার অংশ হিসেবে রয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে বিচারিক ও আইনি বিষয়ও জড়িত।
সরকারের এই অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তথ্য উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, ভারত থেকে শেখ হাসিনাসহ দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সহজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় পক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তারা পেয়েছে এবং বিষয়টি ভারতের প্রচলিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে এ অবস্থান জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রশ্নও ওঠে। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার বিষয়টিকে মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবেই দেখছে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও তথ্য উপদেষ্টা বলেছিলেন, সরকার শেখ হাসিনার স্বেচ্ছায় ফিরে আসার অপেক্ষায় না থেকে তাঁকে আইনগত প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবি শুধু ভারতের ওপর চাপ তৈরির কৌশল নয়; সরকার বিষয়টিকে আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে।
এদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় তাঁর প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ তোলা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ভারতের সংশ্লিষ্ট আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরও নির্ভর করবে। আপাতত ঢাকা বলছে, তারা তাঁকে ফেরত চায় এবং দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন স্পষ্ট—বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই তাঁর দেশে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।