ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন এসেছে। অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির কাঠামোয় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মুসলিমদের প্রধান দুই

ক্যালিফোর্নিয়ার রাষ্ট্রীয় ছুটির তালিকায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৮ সময় , আপডেট সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৮ সময়

ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন এসেছে। অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির কাঠামোয় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মুসলিমদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ শীর্ষক অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭-এ স্বাক্ষর করেন। গভর্নরের সরকারি ঘোষণাতেও অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭-কে স্বাক্ষর করা বিলগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে।


এই বিলটি উত্থাপন করেন সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি। বিলটি আইন হওয়ার ফলে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা এখন ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির কাঠামোয় স্বীকৃতি পেল। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। ঈদ সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে ঈদের দিন ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি দপ্তর, আদালত, স্কুল, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে।


নতুন আইনের মূল বিষয় হলো ঈদকে সরকারি ক্যালেন্ডারে স্বীকৃতি দেওয়া এবং মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করা। আইনে ঈদুল ফিতরের জন্য শাওয়াল মাসের প্রথম দিন এবং ঈদুল আজহার জন্য জিলহজ মাসের দশম দিনকে ভিত্তি ধরা হয়েছে। ইসলামি চান্দ্রবর্ষ অনুসারে ঈদের তারিখ প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। তাই নির্দিষ্ট কোনো ইংরেজি তারিখের পরিবর্তে ইসলামি মাসের তারিখ ব্যবহার করা হয়েছে।


মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যও আইনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে সেই অনুপস্থিতিকে অনুমোদিত অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এর ফলে ঈদের দিন কোনো শিক্ষার্থী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা অন্য কোনো শিক্ষামূলক কার্যক্রমে উপস্থিত হতে না পারলে তার অনুপস্থিতি নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।


তবে স্কুল বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোনো স্কুল ঈদের দিন বন্ধ রাখতে পারবে। একইভাবে কমিউনিটি কলেজগুলোও স্থানীয় চুক্তি বা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঈদের দিন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারবে। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়ায় ঈদের সরকারি স্বীকৃতি এসেছে, কিন্তু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ রাখার বিধান করা হয়নি। কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


আইনটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কমিটির অনুমোদনের পর অ্যাসেম্বলিতে বিলটি পাস হয়। পরে সিনেটের অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বিলটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এতে স্বাক্ষর করেন। নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি কাঠামোয় মুসলিমদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যুক্ত হলো। বিশেষ করে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ঈদের দিনে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে এটি একটি আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।


একই সঙ্গে সরকারি কর্মী, স্কুল ও কমিউনিটি কলেজ পর্যায়েও ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঈদের স্বীকৃতি থাকলেও আদালত, সরকারি দপ্তর, স্কুল কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেদিন ছুটি বা স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার স্বীকৃতি মূলত একটি সরকারি ও প্রশাসনিক স্বীকৃতি, যার মাধ্যমে মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব পালনের বিষয়টি অঙ্গরাজ্যের সরকারি কাঠামোয় আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা পেল।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯