দখল ও ভাঙচুরের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। এরই মধ্যে সেখানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো

এখানে যারা দখল করেছিল, তারাই এসে এখন পরিষ্কার করছে— আসিফ মাহমুদ

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১১ সময় , আপডেট সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১১ সময়

দখল ও ভাঙচুরের পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। এরই মধ্যে সেখানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হলেও সেই উদ্যোগকে লোকদেখানো বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার বিকেলে গুঁড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রথমে দখল ও ভাঙচুর করে পরে সেই জায়গা পরিষ্কার করার ঘটনা অনেকটা ‘সর্প হয়ে দংশন করে, পরে ওঝা হয়ে ঝাড়ার’ মতো। তার অভিযোগ, যারা জায়গাটি দখল করেছিল, তারাই এখন সেখানে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে।


আসিফ মাহমুদ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখতে রাজি নন। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন দখলের ঘটনা ঘটেছে কয়েক হাজার। দখলদারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যদি এসব জায়গা ছেড়ে দেন, তাহলে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ধন্যবাদ জানানো হবে। দখলের ধরন নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তার ভাষায়, বর্তমানে এক ধরনের দখল হচ্ছে লাঠিসোঁটা ও হেলমেট নিয়ে এসে ভাঙচুরের মাধ্যমে। আরেক ধরনের দখল হচ্ছে কাগজপত্র বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গাটি যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় আবার দখল না হয়ে যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।


একই সঙ্গে রাড্ডা ক্লিনিকের জায়গায় ভবিষ্যতে সরকারি উদ্যোগে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হলে পুরো ভবনটি চিকিৎসাসেবার কাজে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তার বক্তব্য, ভবনের কিছু অংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে দিয়ে বাকি অংশে বাজার বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো উচিত হবে না। রাড্ডা ক্লিনিককে তিনি ‘প্রতিরোধের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের কারণেই জায়গাটি আবার স্বাস্থ্যসেবার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।


এর আগে হামলা ও ভাঙচুরের পর রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিজস্ব সাইনবোর্ডও পুনরায় টাঙানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চলছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনায় এখনো নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় শুধু কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই হবে না। তার দাবি, প্রায় দুই শতাধিক মানুষ প্রকাশ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে হামলা চালিয়েছে। তাই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও সরকারি উদ্যোগে সংস্কার করতে হবে।


এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া শাহ আলম নামের একজনের সঙ্গে স্থানীয় সাবেক এক সংসদ সদস্যের ছবি দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই ব্যক্তির সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্যের সম্পর্ক কী, সেটি স্পষ্ট করার দাবি জানান এনসিপির মুখপাত্র। তবে এই বক্তব্যে তিনি যে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন, সেটি তার অভিযোগ হিসেবেই এসেছে; এর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ বা আদালতের সিদ্ধান্তের কথা তিনি উল্লেখ করেননি। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা নিয়ে এরই মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রটি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন।


ফলে জমি দখল, ভাঙচুর, স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা এবং ভবিষ্যতে জায়গাটির ব্যবহার—সব মিলিয়ে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। আর আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে সবচেয়ে জোর দেওয়া হয়েছে একটি বিষয়েই—স্বাস্থ্যসেবার এই জায়গা যেন আবার কোনোভাবেই দখল বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিকে না যায়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯