চাকরি শুধু মাস শেষে বেতন পাওয়ার একটি মাধ্যম নয়—একজন মুসলিমের জন্য কর্মক্ষেত্র হতে পারে সততা, আমানতদারি, দায়িত্ববোধ ও

চাকরিজীবনে যেভাবে ইসলাম চর্চা করবেন

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৯ সময় , আপডেট সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৯ সময়

চাকরি শুধু মাস শেষে বেতন পাওয়ার একটি মাধ্যম নয়—একজন মুসলিমের জন্য কর্মক্ষেত্র হতে পারে সততা, আমানতদারি, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতির বড় পরীক্ষা। প্রতিদিন ঘর থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় একজন মানুষ যে সময় ও শ্রম দিচ্ছেন, তার প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে উপার্জনের হালাল-হারাম এবং মানুষের হক আদায়ের বিষয়। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সকালেই ঘর থেকে বের হন নানা পেশার মানুষ। কেউ অফিসে যান, কেউ কারখানা বা দোকানে, আবার কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটে যান। সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, মা-বাবার চিকিৎসা এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কর্মজীবন মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামও হালাল জীবিকা অর্জনকে উৎসাহিত করেছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, নামাজ শেষ হলে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে।


তবে শুধু উপার্জন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সেই উপার্জনের পথটিও হতে হবে বৈধ ও পবিত্র। একজন চাকরিজীবী মাস শেষে যে বেতন হাতে পান, সেই অর্থ দিয়েই পরিবারের খাবার কেনা হয়, বাড়িভাড়া দেওয়া হয়, সন্তানের শিক্ষার খরচ মেটানো হয়, মা-বাবার ওষুধ কেনা হয়। তাই বেতনের প্রতিটি টাকার উৎস হালাল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তি নিজের হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো ভক্ষণ করেনি। অর্থাৎ নিজের পরিশ্রমে অর্জিত বৈধ উপার্জনের মর্যাদা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


কর্মজীবনের আরেকটি বড় বিষয় হলো সময় ও দায়িত্বের আমানত। একজন কর্মী যে সময়ের বিনিময়ে বেতন নিচ্ছেন, সেই সময় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে ব্যয় করাও তার কর্তব্য। অফিসে উপস্থিত থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ ফাঁকি দেওয়া, দায়িত্বে অবহেলা করা কিংবা বিভিন্ন কৌশলে প্রতিষ্ঠানের সময় নষ্ট করা আমানতের খেয়ানতের পর্যায়ে পড়তে পারে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পাওয়ার পর সেটি যথাযথভাবে পালন করা একজন মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব।


শুধু দায়িত্ব পালন নয়, কর্মক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে আচরণও ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মকর্তা অধীন কর্মীর সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন, একজন কর্মী সহকর্মীর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করছেন—এসবেরও হিসাব রয়েছে। কাউকে ছোট করা, অন্যের ভুল নিয়ে উপহাস করা, সহকর্মীর পেছনে নিন্দা করা, অন্যের কৃতিত্ব নিজের নামে নেওয়া কিংবা অহংকার করা ইসলামী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোরআনে একে অন্যকে উপহাস না করার এবং গিবত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার পাশাপাশি সুন্দর চরিত্রও একজন মানুষের পরিচয়ের অংশ হওয়া উচিত।


তবে কর্মজীবনের ব্যস্ততায় যেন ইবাদতের বিষয়টি হারিয়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। জীবিকার জন্য কাজ করতে গিয়ে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত কিংবা পরিবারের প্রাপ্য সময় একেবারে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা ফরজ। তাই কর্মস্থলে নামাজের সময় হলে যথাসম্ভব নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা এবং কাজের কারণে ফরজ ইবাদতকে অবহেলা না করাই একজন মুসলিমের দায়িত্ব। একই সঙ্গে নিজের পেশায় দক্ষতা অর্জন করাও দায়িত্বের অংশ। একজন চিকিৎসককে চিকিৎসাবিজ্ঞানে দক্ষ হতে হবে, শিক্ষককে নিজের বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে, প্রকৌশলীকে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতে হবে এবং ব্যবসায়ীকে সঠিক লেনদেনের বিধান জানতে হবে। নিজের অযোগ্যতা লুকিয়ে দায়িত্ব নেওয়া যেমন নিজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি অন্য মানুষের ক্ষতির কারণও হতে পারে।


দিন শেষে একজন কর্মজীবী মানুষ যদি ঘরে ফিরতে পারেন এই প্রশান্তি নিয়ে যে, আজ তিনি কারও হক নষ্ট করেননি, হারাম উপার্জন করেননি, দায়িত্বে ফাঁকি দেননি এবং মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন—তাহলে তার কর্মজীবন শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং ইবাদতেরও একটি সুন্দর অংশ হয়ে উঠতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯