মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। এবার এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ দাবি করেছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও আসবাব লুট করা হয়েছে। তার অভিযোগ, পুলিশের গাড়ির সামনেই এসব মালামাল ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ফুয়াদ।
তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল্যবান ইনস্ট্রুমেন্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যখন হাসপাতালের ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি ট্রাকে তোলা হচ্ছিল, তখন ঘটনাস্থলের সামনে পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। তবে এই অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হয়েছে। এর আগে প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা ও লুটপাটের সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। লুটপাটের সময় পুলিশের উপস্থিতির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে ২৫ সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশধারী একটি বড় দল রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনাও ভেঙে ফেলা হয়। মামলার নথিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধসহ দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ও স্টিলের আলমারি লুটের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুই ট্রাক লুট করা মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে পুলিশের কোনো সদস্যের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ফুয়াদ আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটি শুধু রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রশাসনের সম্পৃক্ততারও ইঙ্গিত রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে কারও বিরুদ্ধে এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, এটি সাধারণ মানুষের সেবার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। তার দাবি, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মানুষ নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দরের সেবা নিতেন। তাই এমন একটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ঘটনা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দাবিও জানান। তার ভাষ্য, হামলার পর কর্মীদের মধ্যে ভয় ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত এবং গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন—স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল্যবান সরঞ্জাম কীভাবে লুট হলো, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত। তদন্ত শেষ হলে এসব প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর পাওয়ার কথা।