ঢাকার জলাবদ্ধতা কি এবার সত্যিই কমতে যাচ্ছে? বছরের পর বছর দখল, বর্জ্য আর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে থাকা খালগুলো

কানাডা–অস্ট্রেলিয়ার কথা বলব না, ঢাকা হবে বাসযোগ্য: মীর শাহে আলম

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৪ সময় , আপডেট সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৪ সময়

ঢাকার জলাবদ্ধতা কি এবার সত্যিই কমতে যাচ্ছে? বছরের পর বছর দখল, বর্জ্য আর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে থাকা খালগুলো নিয়ে এবার শুষ্ক মৌসুমকেই কাজে লাগাতে চায় সরকার। চারটি গুরুত্বপূর্ণ খালকে দখলমুক্ত করে পানিনিষ্কাশন ও মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রোববার বিকেলে জিরানী খালসংলগ্ন এলাকায় চারটি খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির প্রকল্পের চলমান কাজ পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি মান্ডা, জিরানী, শ্যামপুর ও কালুনগর খালের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।


জিরানী খালের একটি অংশ পরিদর্শন শেষে মীর শাহে আলম বলেন, শুধু কথায় নয়, বাস্তবে একটি বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে কাজ করতে চায় সরকার। তার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি ঢাকা চান, যেখানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকবে এবং জলাবদ্ধতা থাকবে না। প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু খাল পরিষ্কার করলেই হবে না। খালের পাড় সংরক্ষণ, সেখানে বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের হাঁটার জায়গা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ পানিনিষ্কাশনের পাশাপাশি খালগুলোর আশপাশের পরিবেশকেও ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


চারটি খালের কাজের অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ বলে জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, চলতি শুষ্ক মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে কাজের গতি আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালের ভেতরে এবং পাড়ে অবৈধ দখল চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার বক্তব্য, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে প্রশাসন স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


ঢাকার জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে খালগুলোর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য জমে থাকার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তাই খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি নদীগুলোর পানিপ্রবাহও স্বাভাবিক করতে চায় সরকার। মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ ও নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করার পাশাপাশি পয়োবর্জ্য শোধনের ব্যবস্থাও এই পরিকল্পনার অংশ। নদী ও খালকে ঘিরে কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নাগরিকদের সহযোগিতাও চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তার বক্তব্য, সরকার একা সবকিছু করতে পারবে না। খাল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নাগরিকদেরও যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে না পারলেও উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে পারবেন। খাল পরিদর্শনের সময় রাজনৈতিক প্রসঙ্গও উঠে আসে। মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন, বিরোধী দল অহেতুক কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানের দিকে এগোচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি এবং সরকারকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে নিজের বক্তব্যে সরকারের যেখানে ব্যর্থতা রয়েছে, সেসব বিষয়ে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।


সব মিলিয়ে, মান্ডা, জিরানী, শ্যামপুর ও কালুনগর—এই চার খালকে কেন্দ্র করে এখন চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ। শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই কাজের গতি বাড়িয়ে খালগুলোকে পানিনিষ্কাশনের উপযোগী করা গেলে ঢাকার জলাবদ্ধতা কমাতে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯