জানুয়ারির অধিবেশন ঘিরেই বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সামনে এগোতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদে সংশোধনী বিল তোলার পর এবার গণভোটের বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে প্রক্রিয়াটিতে। কবে এবং কীভাবে হবে এই গণভোট, আর বিরোধী দল কি শেষ পর্যন্ত আলোচনায় ফিরবে—এসব প্রশ্নেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। জানুয়ারির অধিবেশনেই জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের বিল তোলা হবে বলে জানিয়েছেন এ-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সংশোধনী প্রস্তাবনায় পরিবর্তন আসায় সংসদে বিল পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট আয়োজন করা হবে।
রোববার জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের মতামত নেয় বিশেষ কমিটি। সেখানেই এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, বিভেদ নয়, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে গণভোট আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর সেই কারণেই সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে এগোবে। প্রথমে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধনের প্রস্তাব ও মতামত নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর জানুয়ারির সংসদ অধিবেশনে সংশোধনী বিল তোলার কথা রয়েছে। সংসদে বিলটি পাস হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে এই প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিরোধী দলের অংশগ্রহণ। কারণ বিশেষ কমিটি গঠনের শুরু থেকেই এ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি মনোনীত করেনি। পরে তারা বিশেষ কমিটিকেই প্রত্যাখ্যান করে।
এ অবস্থায় সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা কতটা এগোয়, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য গণভোট—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন সামনে এগোচ্ছে সংশোধন প্রক্রিয়া। জানুয়ারির সংসদ অধিবেশনে বিলটি তোলা হলে এর পরবর্তী ধাপ আরও স্পষ্ট হবে। আর শেষ পর্যন্ত গণভোট হলে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।