সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমর সানীকে নিয়ে ট্রল নতুন কিছু নয়। তাকে ঘিরে নানা ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনা প্রায়ই দেখা যায়। তবে এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন ঢালিউডের এই জনপ্রিয় চিত্রনায়ক। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রল, নিজের ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
ওমর সানীর দাবি, তাকে নিয়ে ট্রল হওয়ার মতো কোনো কাজ তিনি জীবনে করেননি। বরং তার কর্মকাণ্ডকে অন্যরা নিজেদের মতো করে ট্রলের বিষয় বানিয়ে ফেলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন বিষয়কে ট্রলের মতো করে উপস্থাপন করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের স্বভাবের কথা বলতে গিয়ে ওমর সানী জানান, তিনি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন। আর এই সরাসরি কথা বলাটিই অনেকের ভালো লাগে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের তার কথায় আপত্তি তৈরি হয়, তারাই এসব বিষয় ছড়িয়ে দেন। তবে এসব নিয়ে তিনি খুব একটা মাথা ঘামান না।
নিজেকে কিছুটা প্রতিবাদী মানুষ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, নিজের কথা সরাসরি বলতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর এ কারণেই অনেক সময় তাকে নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়। এদিকে ওমর সানীর ব্যবহৃত একটি ঘড়ি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, তার হাতে থাকা ঘড়িটির দাম প্রায় ২৯ লাখ টাকা। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন অভিনেতা।
ওমর সানী জানান, তার হাতে থাকা ঘড়িটির দাম ২৯ লাখ টাকা নয়। বরং ঘড়িটি কিনতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ১১০০ টাকা। তার মতে, তাকে ওই ঘড়ি পরতে দেখে অনেকের কাছে সেটিকে দামি মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে ঘড়িটির দাম এত বেশি নয়। নিজের জীবনযাপন নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। ওমর সানী বলেন, কোনো কিছু নিয়ে তিনি কখনো আলগা বাহাদুরি বা লোক দেখানো করেননি। এমনকি তার কাছে মার্সিডিজ গাড়ি থাকার বিষয়টিও তিনি ফুটানি করে প্রচার করেন না। তার কাছে এগুলো নিয়ে বড় করে কথা বলার কিছু নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট বা মন্তব্যের কারণে কখনো নিজের পোস্ট মুছে ফেলেছেন কি না—এমন প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, সাধারণত এ ধরনের কারণে পোস্ট মুছে ফেলার প্রয়োজন মনে করেননি। তবে জীবনে একবার বা দুবার কোনো পোস্ট মুছে থাকতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে কখনো পোস্ট করেননি। এমন কোনো পোস্ট কেউ দেখাতেও পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওমর সানীর মতে, যারা সত্যিকারের শিল্পী, তারা অনেক সময় কম কথা বলেন। অথচ যারা শিল্পী নন, তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি কথা বলেন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। অন্যদিকে ব্যক্তিজীবনে দীর্ঘদিনের তারকা দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমী। ১৯৯৫ সালের ২ আগস্ট তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই সন্তান ফারদিন ও ফাইজা।
১৯৯৪ সালের ২ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়া দীলিপ সোম পরিচালিত ‘দোলা’ সিনেমার মাধ্যমে ওমর সানী ও মৌসুমী জুটি হিসেবে দর্শকদের সামনে আসেন। এরপর ‘আত্ম অহংকার’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘হারানো প্রেম’, ‘গরিবের রানি’, ‘প্রিয় তুমি’, ‘সুখের স্বর্গ’, ‘মিথ্যা অহংকার’, ‘ঘাত প্রতিঘাত’ ও ‘লজ্জা’সহ আরও বেশ কয়েকটি সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রলকে যে খুব একটা গুরুত্ব দেন না, এবার সেই কথাই স্পষ্ট করে জানালেন ওমর সানী। তাঁর বক্তব্য, নিজের অবস্থান পরিষ্কার রেখে চলাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।