রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাড্ডা ক্লিনিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি জানান, এ ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ করে মোট ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনা আধা ঘণ্টা কিংবা এক ঘণ্টায় ঘটেনি। ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। তদন্তের মাধ্যমে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলার ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ জন্য দারুসসালাম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবারের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলার পর প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা এবং তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুখোশ পরা ২৫০ জনের বেশি ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে রাখে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর ক্লিনিকের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মালপত্র লুট করা হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। হামলায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে রাড্ডা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এখন এই ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের জিজ্ঞাসাবাদ, মামলার তদন্ত এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে হামলার পেছনে কারা জড়িত ছিল, তা বের করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে যার সম্পৃক্ততাই পাওয়া যাবে, তার রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টিই বিবেচনায় নেওয়া হবে।