বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করার অঙ্গীকার করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৬ সময় , আপডেট সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৬ সময়

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করার অঙ্গীকার করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’ শুক্রবার নিউইয়র্কে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।  রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ। তাঁর সরকার এই পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।


বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তিনি ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ হিসেবে নয়, একজন বাংলাদেশি ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছেন। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাঁদের ব্যবসা ও বিনিয়োগের স্বার্থ রক্ষা করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের লক্ষ্য সফলতা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। এবার দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে থাকা বিনিয়োগের সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।


তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাংলাদেশে রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, বড় বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। তবে তৈরি পোশাকের বাইরেও দেশের অর্থনীতিতে আরও অনেক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। জ্বালানি, অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। 


এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও মূল্য সংযোজন কর প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। 


বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর বাস্তবে কী ঘটে, সেটিই দেখেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়—এসবই তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


তাঁর ভাষায়, নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সেই নীতির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের পরিবর্তে উভয় পক্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করবে—এমন অংশীদারত্ব চায়। ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। 


বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও তাঁদের নির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করার দায়িত্বে তাঁরা থাকবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব তৈরি করা।


আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে, তাঁদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে সরকার প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া অনেক বিনিয়োগকারী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকটি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯