মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালিতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের

চীনের গোয়েন্দা তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হামলা আরও নিখুঁত হচ্ছে

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫১ সময় , আপডেট সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫১ সময়

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালিতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, চীনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট চিত্র ও ভৌগোলিক তথ্য ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছে ইরান। এর ফলে মার্কিন ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে আরও নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে পারছে দেশটি।


শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের চালানো নির্ভুল হামলার পেছনে চীনা স্যাটেলাইট তথ্যের ভূমিকা ছিল। ওই হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এ ধরনের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী হামলা চালানোর মতো একক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ইরানের আগে ছিল না।


এ ছাড়া চীনা ভৌগোলিক তথ্য ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে নৌযানের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে ইরান—এমন তথ্যও পেয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। এর ফলে তাপ শনাক্ত করতে সক্ষম ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সঠিক সময়ে ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে পারছে ইরানি বাহিনী। তবে শুধু চীনা সহায়তাই নয়, ইরানের হামলার সক্ষমতা বাড়ার পেছনে রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুদ্ধ থেকে অর্জিত ইরানি সেনাদের অভিজ্ঞতারও ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।


এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় চীনা স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তবে চীনা সরকারের সরাসরি নির্দেশে এসব সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, নাকি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি মার্কিন কর্মকর্তারা।


অভিযোগের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, চীন সব আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করে এবং ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরোধিতা করে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকেও ইরান যুদ্ধের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ বলেছেন, ইরানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অবশ্য এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, চীনের কথিত এসব পদক্ষেপ সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারেনি। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন প্রশাসন তিনটি চীনা স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার কাজে ব্যবহারের জন্য স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করেছে।


এদিকে যুদ্ধ সাত মাস পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানও নিজেদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার পাশাপাশি নিচু ও মাঝারি উচ্চতায় চলাচলকারী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পরিদর্শক জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সব মিলিয়ে, চীনা স্যাটেলাইট তথ্যের কথিত ব্যবহার, রাশিয়ার কারিগরি সহায়তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা—এই তিনটি বিষয় ইরানের সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চীনা সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।


সূত্র: সিএনএন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯