উন্নয়নের অধিকারকে শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কার্যকর করতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, উন্নয়নের অধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন সবার অঙ্গীকার, দায়িত্ববোধ ও সম্মিলিত পদক্ষেপ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ চলাকালে ‘উন্নয়নের অধিকার’ নিয়ে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণা গ্রহণের ৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। ওই ঘোষণায় উন্নয়নকে একটি অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এমন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, উন্নয়নের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সব জাতির অঙ্গীকার, দায়িত্ববোধ এবং সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন জনবান্ধব উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার কার্ড’ উদ্যোগের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
একই সঙ্গে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নারী ও যুবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি। বাংলাদেশের ‘রংধনু জাতি’ ধারণার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন, যেখানে উন্নয়নের পথে কাউকে পেছনে ফেলে রাখা হবে না। অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক উন্নয়ন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে কয়েকটি অগ্রাধিকারও তুলে ধরেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে আরও ন্যায্য বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো তৈরি, উন্নয়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে নিশ্চিত ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
পাশাপাশি উন্নয়নের অধিকার বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের বক্তব্যে মূলত এমন একটি বৈশ্বিক উন্নয়নব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি সমতা, অংশগ্রহণ, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং প্রযুক্তিতে সবার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। উন্নয়নের অধিকারকে আরও শক্তিশালী করা এবং যৌথ সমৃদ্ধির পথ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।