এলএনজির বাজারে হঠাৎ এমন চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে এশিয়ার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহেও। একদিকে চড়া

চড়া দামেও এলএনজি মজুত করছে ইউরোপ, সরবরাহ সংকটে এশিয়া

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৪ সময় , আপডেট সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ৩:৪ সময়

এলএনজির বাজারে হঠাৎ এমন চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে এশিয়ার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহেও। একদিকে চড়া দামের কারণে এশিয়ার দেশগুলো এলএনজি কেনা কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে শীত মৌসুমের আগে ইউরোপ বাধ্য হচ্ছে আরও বেশি গ্যাস কিনতে। আর এই টানাপোড়েনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো। পণ্যবাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এশিয়ায় এলএনজি আমদানির পরিমাণ কমে প্রায় ২০ মিলিয়ন টনে নেমে আসতে পারে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এবং মাত্র এক মাস আগেও এই আমদানির পরিমাণ ছিল অন্তত ২২ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ বাড়তি দামের চাপ ইতোমধ্যেই এশিয়ার বাজারে চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে।


বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের বাকি সময়েও উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়ায় এলএনজির চাহিদা নিম্নমুখী থাকতে পারে। কিন্তু ইউরোপের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শীত মৌসুমের আগে গ্যাসের মজুত বাড়াতে সেখানে এলএনজি কেনার প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। চলতি মাসে ইউরোপ প্রায় ৮ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করছে। অক্টোবর নাগাদ এই চাহিদা বেড়ে সাড়ে ১০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে চলতি বছর ইউরোপকে প্রায় ১২৫ মিলিয়ন টন পর্যন্ত এলএনজি কিনতে হতে পারে।


এই পরিস্থিতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ সংকট। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অস্থিরতা এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউরোপমুখী রাশিয়ার প্রধান গ্যাস পাইপলাইনগুলো বন্ধ থাকার বিষয়টি। ফলে ইউরোপের সামনে বিকল্প জ্বালানি সংগ্রহ ছাড়া খুব বেশি পথ খোলা নেই। আর সেই প্রয়োজন মেটাতে চড়া দামেই এলএনজি কিনতে হচ্ছে তাদের।


২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময়ও ইউরোপকে বিপুল দামে গ্যাস কিনে মজুত করতে হয়েছিল। পরে চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়ে। তবে সেই সময় রুশ পাইপলাইনের কিছু সরবরাহ বিকল্প হিসেবে কাজে এসেছিল। এবার সেই সুযোগ অনেকটাই সীমিত। অন্যদিকে সংকট মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল নিয়েছে চীন। স্পট বাজারের অস্থিরতা এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে দেশটি। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে স্থলপথে গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখে কাতারি সরবরাহের ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে চীন।


তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। চড়া দামে এলএনজি কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেক দেশ বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর এশীয় দেশগুলোকে ঘিরে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে এসব দেশের জন্য এলএনজি আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।


অর্থাৎ এলএনজির বাজারে বর্তমান অস্থিরতা শুধু গ্যাসের দাম বাড়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার জ্বালানি সরবরাহ এবং সামগ্রিকভাবে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ। শীত মৌসুম যত ঘনিয়ে আসবে, বিশ্ববাজারে এলএনজি নিয়ে এই প্রতিযোগিতা আরও কতটা তীব্র হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯