কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা চলাকালেই হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। একপর্যায়ে তা গড়ায় হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়িতে। এতে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় সভার কার্যক্রম। বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের দিশা টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিশা টাওয়ার মিলনায়তনে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা শুরু হয়। সভা চলার একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্লোগান দেওয়া নিয়ে ছাত্রদলের উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বিতর্ক বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে কয়েকজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর উত্তেজিত নেতাকর্মীরা একে অপরের দিকে প্লাস্টিকের চেয়ার ছুড়ে মারতে শুরু করেন। এতে মিলনায়তনের ভেতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং সভা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এগিয়ে আসেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সভাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বি বলেন, সংগঠনে কোনো উপদলীয় কোন্দল নেই। শুধু স্লোগান দেওয়া ও কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে এই বিশৃঙ্খলা হয়েছে। বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহম্মেদও ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, দলীয় স্লোগান দেওয়া নিয়ে কর্মীদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। পরে জ্যেষ্ঠ নেতারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাদের মিলনায়তনের বাইরে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন। এরপর পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। ঘটনার পর সভাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সভায় এমন বিশৃঙ্খলার ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।