জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে, আর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময় , আপডেট সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময়

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে, আর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের জলবায়ু বিষয়ক সভায় তিনি জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন।  স্থানীয় সময় বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায্য উত্তরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা এবং ন্যায্য জ্বালানি উত্তরণ নিয়ে আলোচনা হয়। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার পাশাপাশি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তারেক রহমান বলেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকলে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।


জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তার পরিমাণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। 


এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। সরকার পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, পাটজাত পণ্য এবং পুনর্ব্যবহারভিত্তিক অর্থনীতির মতো সবুজ উদ্যোগ সম্প্রসারণেও কাজ করছে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে জলবায়ু মোকাবিলার সব লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব এবং নিজ নিজ সক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।


জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক নিঃসরণ কমিয়ে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য ধরে রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও নিয়মিত অর্থ পুনঃপূরণ। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে থাকা প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯