জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী দিনেই উঠে এলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—মানুষকে কেবল ব্যবস্থাপনার বোঝা হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং সংকট মোকাবিলা ও নতুন সমাধান তৈরির মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। ‘সামাজিক ব্যবসা, যুবসমাজ ও প্রযুক্তি’ বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সংকট দেখা দেওয়ার পর শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। প্রয়োজন ব্যবস্থাগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
ড. খলিলুর রহমান বিশেষভাবে যুবসমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, তরুণদের অংশগ্রহণ শুধু কোনো কার্যক্রমে উপস্থিত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের চিন্তা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে বাস্তব পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিকে শুধু আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে নয়, বরং উন্নয়নকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য হাতে সময় খুব বেশি নেই। আর মাত্র চার বছর সময়ের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, দক্ষতা ও সুযোগ দিতে হবে। তিনি মনে করেন, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে তারাই নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর সমাধান তৈরি করতে পারবে। ফলে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষকে রেখে প্রযুক্তি ও যুব নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী দিনের এই বক্তব্যে তাই উঠে এসেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যুব নেতৃত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার। ২০৩০ সালের লক্ষ্য পূরণে এসব উপাদানকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর ওপরই জোর দিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান।