ইরানের আকাশপথে এবার আরও বড় চাপ। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানি এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি কোনো বিমানবন্দর ইরানি বিমানে জ্বালানি, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা কিংবা টিকিট বিক্রির সুবিধা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বরের এই বার্তার পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি শুধু ইরানি বিমান সংস্থার ওপর নয়; বিদেশি বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, ভূমিসেবা প্রদানকারী এবং টিকিট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ ইরানি বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরাকের পক্ষ থেকে ইরানি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। জর্জিয়াও ইরানি ক্যারিয়ারগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই সময়ে ইরানের মহান এয়ার জানিয়েছে, তুরস্কের অনুরোধে দেশটিতে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে ইরান থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলের সুযোগ আরও সংকুচিত হচ্ছে। এর আগে তুরস্কের জাতীয় বিমান সংস্থাও ইরানগামী ফ্লাইট অন্তত ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে। অন্যান্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ফ্লাইটও বিভিন্ন সময়ের জন্য স্থগিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপ এসেছে ইরানের বিমান খাতের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবশিষ্ট বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব সংস্থা ইরানের সরকার ও সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করেছে এবং অস্ত্র, সামরিক সদস্য ও বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে ভূমিকা রেখেছে। স্কট বেসেন্টের এই বক্তব্য এসেছে চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে তাঁর অর্থনৈতিক বৈঠকের পর। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানের ওপর এই নতুন অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা সামনে এলো। ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার চীন হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বেসামরিক বিমান খাত নতুন বিমান, যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে বিদেশি বিমানবন্দর ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ইরানি বিমানকে প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া থেকে সরে আসে, তাহলে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনায় আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কতটা ব্যাহত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বাস্তব পদক্ষেপের কারণে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আরও সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।