যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যে ডিজেলসংকট তৈরি হয়েছে, তার চাপ ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে। সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে

বিশ্বজুড়ে ডিজেলসংকট, স্বস্তি মিলবে না ২০২৭ সালেও

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪১ সময় , আপডেট সময় : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪১ সময়

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যে ডিজেলসংকট তৈরি হয়েছে, তার চাপ ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে। সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ডিজেলের উচ্চমূল্য আরও দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বাজার বিশ্লেষকেরা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। এর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজেলের মজুদও ঐতিহাসিকভাবে নিচের দিকে নেমে গেছে।


সরবরাহ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ডিজেলের দামে। ঘাটতির কারণে জ্বালানিটির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। আর ডিজেলের ব্যবহার শুধু যানবাহনেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষিকাজ, উৎপাদনশিল্প, ভারী পরিবহনসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাতই এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষক, ট্রাকচালক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ও বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত এসব অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব পণ্য পরিবহন, খাদ্য উৎপাদন এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলতি মাসে দেশটিতে খুচরা ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৬ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। এতে কৃষি ও পরিবহন খাতে ব্যয় বেড়েছে এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে মার্কিন অর্থনীতি ঘিরে উদ্বেগও বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থাতেও সংকটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শোধনাগার ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা ডিজেল সংরক্ষণের জন্য নেওয়া কিছু গুদামের ইজারা নবায়ন করছেন না। এর একটি কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সংরক্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত ডিজেলই পাওয়া যাচ্ছে না।


অর্থাৎ বাজারে সরবরাহ এতটাই সংকুচিত হয়েছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন করে মজুদ বাড়ানোর বদলে বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাজারের মজুদ পরিস্থিতি এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালেও ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের স্বস্তি নাও ফিরতে পারে। যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের বিঘ্নের কারণে তৈরি হওয়া ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।


আর এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের ব্যয় আরও বাড়তে পারে। যার প্রভাব ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে খাদ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ, ডিজেলের সংকট শুধু জ্বালানি বাজারের সমস্যা নয়—সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরেই দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হতে পারে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯