টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে

১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৫৩ সময় , আপডেট সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৫৩ সময়

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। শুধু অভিযোগই নয়, বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। এরপরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগটি যাচাই করতে সরেজমিনে গিয়ে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পেয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন। ফলে ব্রিজটির নির্মাণকাজের মান এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতের আঁধারে করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয় কয়েকজন গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। একপর্যায়ে তারা দেখতে পান, ব্রিজের একটি অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর অভিযোগ করেন, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজে এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


আরেক বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, ব্রিজটির কাজ দিনে করার কথা থাকলেও রাতে কাজ করা হচ্ছিল। রাতে স্থানীয় তরুণরা গিয়ে বাঁশের কঞ্চি, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই দেওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, ব্রিজের কিছু অংশে শাটার বের করার সুযোগ না থাকায় বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে তার ওপর সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে।


উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি থেকে কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় হয়ে মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক শূন্য ছয় মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে ব্রিজটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, বাকি রয়েছে আরও ২০ শতাংশ।


বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে প্রকল্পটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে হওয়ায় বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। অন্যদিকে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন স্থানীয়দের মূল দাবি—শুধু তদন্ত নয়, নির্মাণকাজের পুরো মান যাচাই করে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯