একদিকে সৌদি আরবে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়েমেনের হুথিরা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না—এমনই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু একই সময়ে ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে হুথিদের হামলা, সৌদি নিরাপত্তা সংকট এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। রোববার ২০ সেপ্টেম্বর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, হুথিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সামরিক সংঘাতে যেতে চায় না। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ড সফরের সময়ও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। তখন ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছে, তারা কোনো যুদ্ধ চায় না এবং যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের ওপর হামলা না চালায়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব হুথিদের হামলার মুখে নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। শনিবারও সৌদি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
শুধু সৌদি আরব নয়, ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও হুথিদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকার ওপরও গোষ্ঠীটি নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। এদিকে হুথিদের প্রসঙ্গের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরেও কঠোর বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর প্রায় সাত মাস ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি পরিস্থিতি চলছে। ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রেই ইংস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁকে জানিয়েছেন, খুব কাছের ভবিষ্যতেই বড় ধরনের কিছু ঘটতে পারে। একই সঙ্গে ইরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, ইরানিদের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা উচিত। এর ব্যত্যয় ঘটলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে তিনি রয়েছেন বলে ইঙ্গিত দেন।
অর্থাৎ একদিকে হুথিদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর বার্তা দিচ্ছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে এখন তিনটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে রয়েছে—সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হুথিদের কথিত যোগাযোগ এবং ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। এসবের ওপরই আগামী দিনের আঞ্চলিক পরিস্থিতির অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।
সূত্র: এএফপি।