রাতের মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী একটি বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেছে। এতে অটোরিকশার চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। দুর্ঘটনার পর রাতভর চলে উদ্ধার অভিযান। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস। ধলু গাজীর মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দুটি যানই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের কাইয়ুম প্যাদা, চার আনি বাউরিয়া গ্রামের শিল্পী রানী, বদরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের তিথী।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত চারজনই অটোরিকশাটির যাত্রী ছিলেন। এদিকে দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। বাসটি পানিতে পড়ে গেলেও বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও তত্ত্বাবধায়ক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
বাসের এক যাত্রী জানান, শুরু থেকেই বাসটি খুব দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চলছিল। হঠাৎ কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, তা বুঝে ওঠার আগেই বাসটি খাদে পড়ে যায়। আরেক যাত্রী জানান, তারা ঢাকায় তাবলিগ জামাতে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে ছিল। বাস খাদে পড়ার পর মুহূর্তটিকে তাঁদের কাছে জীবনের শেষ সময় মনে হচ্ছিল। কোলে থাকা নাতিকে নিয়ে তিনি ছিটকে পড়লেও পরে দুজনকেই জীবিত পাওয়া যায়।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না এবং পানির নিচে আরও কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনায় মোট হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। এখন উদ্ধারকাজ শেষ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।