এশিয়ার ক্রীড়া দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ—এশিয়ান গেমস। কিন্তু এবারের আসর শুরু হওয়ার আগেই এমন কিছু চিত্র সামনে এসেছে, যা আগের আসরগুলোর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। নেই প্রচলিত গেমস ভিলেজ, ক্রীড়াবিদদের থাকতে হচ্ছে ক্রুজ জাহাজ, হোটেল ও বিশেষভাবে তৈরি কক্ষে। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে একাধিক ইভেন্টের লড়াই। জাপানের নাগোয়া ও আইচি অঞ্চলে বসছে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় এশিয়ার সেরা ক্রীড়াবিদরা মুখোমুখি হন। এবার অংশ নিচ্ছেন ১৭ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তা।
এবারের সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম হলো—এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো থাকছে না প্রচলিত কোনো গেমস ভিলেজ। এর পরিবর্তে ইতালি থেকে ভাড়া করা একটি ক্রুজ জাহাজকে আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে চার হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তা থাকবেন। বাংলাদেশেরও কয়েকটি খেলার ক্রীড়াবিদ এই জাহাজে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদের জন্য রয়েছে হোটেল এবং কাঠের তৈরি বিশেষ কক্ষ। বাইরে থেকে সাধারণ কাঠের বাক্সের মতো মনে হলেও ভেতরে রয়েছে বিছানা ও প্রয়োজনীয় থাকার ব্যবস্থা। তবে আবাসন নিয়ে এরই মধ্যে অসন্তোষের কথাও শোনা যাচ্ছে।
শুধু আবাসন নয়, পরিবহন ব্যবস্থাপনাতেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। গাড়ির প্রয়োজন হলে আগের দিন জানাতে হচ্ছে। কিন্তু আগে থেকে জানানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে উদ্বোধনের আগেই ফুটবল, ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সব খেলা একই শহরে হচ্ছে না। ফুটবল হচ্ছে ওসাকায়, সাঁতার টোকিওতে এবং সাইক্লিংয়ের আয়োজন ইজুতে।
বাংলাদেশ এবার ২২টি খেলায় অংশ নিচ্ছে। ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তাসহ প্রায় আড়াই শ সদস্যের দল গেছে এশিয়ান গেমসে। অন্যদিকে ভারতের দল রয়েছে পাঁচ শতাধিক সদস্যের। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পদক নিয়ে বড় কোনো নিশ্চয়তা নেই। এশিয়ার ক্রীড়া শক্তিগুলোর মধ্যে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রীড়াবিদদের দিকেই থাকবে মূল নজর। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব রেকর্ডধারী ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি দুইবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ও ছয়বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও অংশ নিচ্ছেন।
এবারের আসর শুধু পদকের লড়াই নয়, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। সাতটি খেলার বাছাই ও কোটা নির্ধারণের সুযোগ থাকছে এই প্রতিযোগিতা থেকে। ৪১টি খেলায় মোট ৪৬১টি ইভেন্টে হবে প্রতিযোগিতা। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের ইতিহাসও রয়েছে। বক্সিংয়ে মোশারফ হোসেনের হাত ধরে প্রথম পদক এবং ক্রিকেটে এসেছে স্বর্ণ। এবার সেই তালিকায় নতুন কোনো সাফল্য যোগ হয় কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।