বাজারে দাম বাড়ার পরও মিলছে না প্রয়োজনীয় সয়াবিন তেল! রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দাম বাড়ার পরও কেন বাজারে তেলের সংকট কাটছে না? রাজধানীর শান্তিনগর, নিউ মার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবেশকদের বারবার তাগাদা দিয়েও তারা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। যতটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে, তার বড় অংশই দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়। নতুন এই দাম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। কিন্তু দাম বাড়ার পরও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও ভোগান্তি। বোতলজাত তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারেও। বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯৮ থেকে ২০০ টাকা এবং পাম তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুধু তেল নয়, রাজধানীর বাজারে বেড়েছে আটা ও ময়দার দামও। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকা দরে। খোলা ময়দার দাম উঠেছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত। এদিকে বাড়তি খরচের কারণ দেখিয়ে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর আপাতত তা স্থগিত রাখা হয়েছে। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের প্রকৃত খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দামও বেড়েছে। রাজধানীর বাজারে এক ডজন ফার্মের লাল ডিম সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি। তবে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের চাষের মাছও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এর মধ্যে রুই ৩৮০ থেকে ৪২০, কাতলা ৪০০ থেকে ৪৪০ এবং ট্যাংরা ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি।
সবজির বাজারও খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না। বেশির ভাগ সবজি আগের চড়া দামেই স্থির রয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ, একদিকে তেলের সরবরাহ সংকট, অন্যদিকে আটা-ময়দা, ডিম ও কাঁচা মরিচের বাড়তি দাম—সব মিলিয়ে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ আরও বাড়ছে।