এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে যেন দুঃস্বপ্ন কাটছেই না! প্রথম ম্যাচে ১০ গোল হজমের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় ব্যবধানে হারতে হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুই দল। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৮৮ ধাপ এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শুরুতে অবশ্য বেশ ভালোভাবেই লড়াই করেছিল বাংলাদেশ।
ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিট দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণ সামলে নিজেদের গুছিয়ে খেলছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। কোচ পিটার বাটলারও প্রথম ম্যাচের তুলনায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর বেশি ভরসা করেন। একাদশে ছিলেন রুপনা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহারের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা। কিন্তু ১৬ মিনিটে বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভেঙে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার কিম মিনজি। তার গোলে এগিয়ে যায় কোরিয়া।
এরপর গোলের ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে জং দাবিনের গোলে আবারও জালে বল জড়ায় বাংলাদেশ। ফলে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজের দল। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণকে চাপে ফেলে তারা।
৬৫ মিনিটে চোয়ে ইউরির গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। এরপর ৭৭ মিনিটে জি সো-ইউনের গোলে আসে চতুর্থ গোল। এর মাত্র দুই মিনিট পর আবারও বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় দক্ষিণ কোরিয়া। এবার গোল করেন হিয়ন সুলগি। এতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ে বাংলাদেশের কষ্ট আরও বাড়ে। কো ইউজিন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার ষষ্ঠ গোল।
শেষ পর্যন্ত ৬-০ গোলের বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। এর আগে এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচেও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ভয়াবহ ফল পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ১০-০ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অর্থাৎ দুই ম্যাচে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রতিপক্ষের জালে কোনো গোল করতে পারেনি, বিপরীতে হজম করেছে ১৬ গোল। এখন এশিয়ান গেমসে নিজেদের শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে।