ভারতকে ঘিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ—শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়া, ব্রিকস

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৪৪ সময় , আপডেট সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:৪৪ সময়

ভারতকে ঘিরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ—শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়া, ব্রিকস সম্মেলন এবং আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের বিষয়কে একই সূত্রে দেখছেন তিনি। তবে এগুলো রিজভীর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; এর সবগুলো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।  বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে রিজভী অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনাসহ গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্তদের ভারতে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার দাবি, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী অভিযুক্তদের ফেরত দেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও ভারত তাতে সাড়া দিচ্ছে না। 


রিজভী আরও প্রশ্ন তোলেন, অতীতে বাংলাদেশে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে ভারত থেকে ফেরত দেওয়া হলেও শেখ হাসিনাকে কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।  এরপর ব্রিকস সম্মেলন প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থানের প্রশংসা করেন রিজভী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সরকারপ্রধান হিসেবে সরাসরি আমন্ত্রণ না জানিয়ে অন্য পরিচয়ে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি বাংলাদেশের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। 


আদানির বিদ্যুৎ নিয়েও বড় অভিযোগ করেন তিনি। রিজভীর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ বন্ধের ঘটনা ঘটেছে এবং ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে থাকায় যেকোনো সময় সরবরাহ বন্ধ করা সম্ভব। সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই বক্তব্যটি রিজভীর অভিযোগ হিসেবেই প্রকাশিত হয়েছে।  দেশের বর্তমান গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি এটিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে দাবি করেন, সরকার বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়েও সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন তিনি।


দেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে রিজভীর দাবি, বর্তমান সরকার আইনের শাসন ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা হলেও আগের মতো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে না—এমন বক্তব্যও দেন তিনি।  সবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন রিজভী। মধুর ক্যান্টিনকে অন্য নামে পরিচিত করার যেকোনো উদ্যোগকে তিনি শহীদ মধুর আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একাত্তরের অর্জন মুছে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার কথা জানান। 


রিজভীর বক্তব্য ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে তিনটি বিষয়—শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি। এসব অভিযোগের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই হবে বিষয়গুলো যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯