জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার—একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত প্রায় ৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদনের পাশাপাশি বন্ধ থাকা দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত টেক্সটাইল মিলও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বুধবারের দুটি মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি, কৃষি ও শিল্প খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে।
সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোট ১২টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি। চীন ও ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে এই জ্বালানি তেল আনা হবে।
একই সঙ্গে জি-টু-জি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি তেল আমদানির যে শর্ত ছিল, সেটিও শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই এলএনজি সরবরাহ করবে কাতার এনার্জি ট্রেডিং। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম-০.০২ ডলার হিসেবে।
জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় চারটি পৃথক প্রস্তাবে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে।
এদিকে স্থানীয় উৎস থেকে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পের পূর্তকাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। তবে ক্রয় কমিটির বৈঠকের বাইরেও এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের আওতাধীন দুটি টেক্সটাইল মিলকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি পদ্ধতিতে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাগুরা টেক্সটাইল মিল এবং নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল। দুটি মিল পরিচালনায় বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে এবার বেসরকারি অংশীদার যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হলো। এর পাশাপাশি চলতি বছরে জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত পরিমাণের বাইরে আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে এই অতিরিক্ত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল রয়েছে।
সব মিলিয়ে বুধবারের বৈঠকের সিদ্ধান্তে একদিকে দেশের জ্বালানি ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আমদানির পথ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে কৃষির জন্য সার এবং খাদ্যপণ্যের মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর শিল্প খাতে মাগুরা ও দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলকে পিপিপির মাধ্যমে চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুনভাবে উৎপাদনে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখন নজর থাকবে—অনুমোদিত এসব আমদানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং এর প্রভাব দেশের জ্বালানি সরবরাহ, কৃষি উৎপাদন ও শিল্পখাতে কতটা পড়ে।