একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলিশ উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি ছিল বাংলাদেশ। অথচ এখন দেশের বাজারে ইলিশের সংকট

দেশীয় উৎপাদনের সংকট ও চড়া দামের কারণে বাড়ছে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৪৭ সময় , আপডেট সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৪৭ সময়

একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলিশ উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি ছিল বাংলাদেশ। অথচ এখন দেশের বাজারে ইলিশের সংকট এতটাই তীব্র যে, চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি করতে হচ্ছে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, আমদানি করা মাছের বড় একটি অংশ আসছে সুদূর গুজরাট থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে তিন লাখ কেজির বেশি, অর্থাৎ ৩৫০ টনেরও বেশি ইলিশ আমদানি করেছে ১৯টি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আমদানির দিকে ঝুঁকেছেন।


ঢাকার বাজারে বর্তমানে ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। ৭০০ গ্রামের মাছের দাম প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের মাছের দাম উঠেছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ভারতের গুজরাটের ভারুচ ও নর্মদা নদীর মোহনা এলাকায় এবার ইলিশের ব্যাপক জোগান হয়েছে। ফলে সেখানে দাম তুলনামূলক কম। পশ্চিমবঙ্গের মাছ রপ্তানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে গেছে। এর বড় অংশই এসেছে গুজরাট থেকে।


গুজরাটের ইলিশ আকারে বড় এবং প্রচুর ডিমযুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশে এর চাহিদাও বেশি। এমনকি ইলিশের ডিমও বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। কম দামে মাছ কিনে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এনে বিক্রি করায় ব্যবসায়ীরাও এতে লাভের সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে দেশে বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের সিংহভাগ আসে, সেই বাংলাদেশকেই কেন এখন অন্য দেশের ইলিশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে?


মৎস্য গবেষকদের মতে, নদীদূষণ, নির্বিচারে জাটকা নিধন, কারেন্ট জালের ব্যবহার, বালু উত্তোলন এবং অনিয়ন্ত্রিত মাছ শিকারের কারণে ইলিশের প্রজনন ও চলাচলের স্বাভাবিক পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। পরিসংখ্যানেও সেই সংকট স্পষ্ট। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে হয় ৫ লাখ ২৯ হাজার টন। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টনে। চলতি অর্থবছরে উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এদিকে গত অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাংলাদেশ রপ্তানি করতে পেরেছে ১১০ টনেরও কম। অর্থাৎ উৎপাদন কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ইলিশের উপস্থিতি কমছে। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে ছয় বছর মেয়াদি প্রায় ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিজেই বলেছেন, ইলিশের উৎপাদন কেন কমছে এবং প্রকল্পের অর্থ কতটা কাজে লেগেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


সরকার অবশ্য বলছে, ইলিশ আমদানি আইনত নিষিদ্ধ নয়। ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাজারের সংকট বিবেচনায় সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা—সাময়িকভাবে ভারতীয় ইলিশ এনে বাজারের ঘাটতি পূরণ করা গেলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা, জাটকা সংরক্ষণ এবং নদী ও সমুদ্রের পরিবেশ ঠিক রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে একসময় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এই মাছের বাজারই হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।


সূত্র: বিবিসি বাংলা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯