ব্রিকস সম্মেলনের জমকালো নৈশভোজে একটিও আমিষ পদ না থাকায় ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। বিশ্বনেতাদের জন্য সাজানো

ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের রাতের খাবারে দেওয়া হয়নি মাছ-মাংস, তুমুল বিতর্ক

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৩ সময় , আপডেট সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১০:১৩ সময়

ব্রিকস সম্মেলনের জমকালো নৈশভোজে একটিও আমিষ পদ না থাকায় ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। বিশ্বনেতাদের জন্য সাজানো ১০টির বেশি পদের পুরো মেনুই ছিল নিরামিষ। আর এই মেনু নিয়েই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আয়োজিত নৈশভোজে অতিথিদের সামনে পরিবেশন করা হয় নানা ধরনের ভারতীয় নিরামিষ পদ। শুরুতে ছিল খান্ডভি মিলেট ও খুম্ব গালাউটি। মূল খাবারে ছিল পনির লাবাবদার, হিমালয়ের মোরেল মাশরুম ও কচি অ্যাসপারাগাসের পদ, গাজর-বিনসের তরকারি, মিলেট পোলাও, বিটরুট রায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি।


মিষ্টির তালিকাতেও ছিল বৈচিত্র্য। অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছিল পুরোনো দিল্লির ফলের ক্রিমের সঙ্গে জিলাপি এবং শাহদূত ফিরনি। তবে এত আয়োজনের মধ্যেও মেনুতে মাংস, মাছ বা অন্য কোনো আমিষ খাবার না থাকায় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। দলটির নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষ খাবার খান। ভারতীয় আমিষ খাবারের বৈচিত্র্যও তুলে ধরেন তিনি।


কংগ্রেস নেতা পবন খেরার অভিযোগ, নিজেদের পছন্দের খাবার দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পর বিজেপি এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অতিথিদের ওপরও সেই পছন্দ চাপিয়ে দিচ্ছে। আরেক কংগ্রেস নেতা ওয়ারিস পাঠান বলেন, ভারতের বৈচিত্র্যের কথা বলা হলেও এই মেনুতে সেই বৈচিত্র্যের একটি বড় অংশ অনুপস্থিত। তার মতে, ভারতীয় খাবারের পরিচয় শুধু নিরামিষ পদে সীমাবদ্ধ নয়; মাটন, মুরগি ও মাছও দেশটির খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বড় বড় নেতারা যখন ভারতে এসেছেন, তখন কেন তাদের সামনে হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, তন্দুরি চিকেন, বাটার চিকেন, গোয়ান ফিশ কারি বা মাটনের মতো বিখ্যাত খাবার রাখা হলো না। এ নিয়ে বিজেপিও পাল্টা জবাব দিয়েছে। দলটির অভিযোগ, সম্মেলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত কিংবা বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পেরে কংগ্রেস এখন নৈশভোজের মেনু নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে।


বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, সম্মেলনের সমালোচনা করার মতো যদি বিরোধীদের কাছে খাবারের মেনু ছাড়া আর কিছু না থাকে, তাহলে সেটিই প্রমাণ করে সম্মেলন কতটা সফল হয়েছে। দলটির আরেক মুখপাত্র তুহিন সিনহা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে তুচ্ছ ও হাস্যকর বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, ব্রিকস সম্মেলনের মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।


ফলে একটি নৈশভোজের নিরামিষ মেনু এখন ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে। একদিকে বিজেপির দাবি, এটি ভারতের বৈশ্বিক কূটনৈতিক সাফল্যকে আড়াল করার চেষ্টা। অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রশ্ন, ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে কেন বিশ্বের অতিথিদের সামনে শুধু নিরামিষ খাবারই রাখা হলো।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯