হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমানোর যে আঞ্চলিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তাতেই এবার বড় ধাক্কা। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর

হরমুজ নিয়ে ইরান-উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, বাড়ছে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময় , আপডেট সময় : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমানোর যে আঞ্চলিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তাতেই এবার বড় ধাক্কা। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে একের পর এক হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। রোববার রাতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানান, ঐকমত্যের স্বার্থে সোমবারের নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকে ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ওমান ও ইরানের মধ্যে করা একটি চুক্তির প্রস্তাবও সেখানে আলোচনায় আসার কথা ছিল।


ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। তেহরান ও মাসকাট যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নতুন তারিখ নির্ধারণে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলবে। এর মধ্যেই সৌদি আরবের তেল সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় উদ্বেগ। শুক্রবার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটির প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ রয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ এটি।


সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মতে, পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত তেল দিয়ে সৌদি আরব আরও পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে। এরপর পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী মোট তেল সরবরাহের প্রায় চার শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাইপলাইনটি কতদিন বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রার ওপর নির্ভর করে মেরামতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবিতেও পাইপলাইনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক ধোঁয়া ওঠার দৃশ্য দেখা গেছে।


অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতেও নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রোববার প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের সময় একটি জাহাজে গোলার মতো কোনো বস্তু আঘাত হানে। এতে আগুন ধরে গেলে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরান জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত এবং চারজন নাবিক আহত হয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না।


এদিকে তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা জুলাইয়ের পর প্রথমবার। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দামও গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ২০ সেন্টের বেশি হয়ে নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুধু হরমুজ নয়, লোহিত সাগর এলাকাতেও পরিস্থিতি শান্ত নয়। ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে হামলার পর বাড়িঘর ও একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছে সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। হুথিরাও সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে। ফলে হরমুজ ও লোহিত সাগর—দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। আর সেই আশঙ্কাই এখন তেলের বাজারে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯