আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে দেশটির উত্তর ও দক্ষিণ অংশ একীভূত হওয়ার পক্ষে নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে ট্রাম্প, ক্ষুব্ধ যুক্তরাজ্য

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৪৯ সময় , আপডেট সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৪৯ সময়

আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে দেশটির উত্তর ও দক্ষিণ অংশ একীভূত হওয়ার পক্ষে নিজের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলার সময় তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ড এক হয়ে গেলে সেটি হবে দারুণ একটি বিষয়।


ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনো ধরনের ঝামেলা তৈরি করতে চান না। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চান। একদিন না একদিন এই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, পুরো আয়ারল্যান্ড এক হয়ে যাওয়া একটি সুন্দর ঘটনা হতে পারে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়ও তিনি নীরব ছিলেন।


অন্যদিকে, লন্ডন থেকে ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে ভিন্ন বার্তা এসেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর আগে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে গণভোটের সম্ভাবনা সম্পর্কে বলা হয়েছিল, বর্তমানে এমন কোনো তথ্য নেই, যাতে বোঝা যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ নতুন করে গণভোট চায়। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে গণভোট আয়োজনেরও প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়।


১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ থাকবে, নাকি একীভূত আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে—এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতে রয়েছে। ওই চুক্তির মধ্য দিয়েই উত্তর আয়ারল্যান্ডে প্রায় তিন দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ইউনিয়নিস্ট দল ডিইউপির নেতা গ্যাভিন রবিনসনও ট্রাম্পের বক্তব্যের পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প নির্ধারণ করবেন না। সিদ্ধান্ত নেবে সেখানকার জনগণই।


তিনি আরও বলেন, লন্ডন, ডাবলিন কিংবা ওয়াশিংটন—কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে না। জনগণের মতামতই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে এখনো উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে রয়েছে। তবে দুই পক্ষের সমর্থনের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমছে। বিশেষ করে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর একীভূত আয়ারল্যান্ডের দাবি ও আলোচনা নতুন করে জোরালো হয়েছে।


সফরে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এর আগে ২০১৯ সালে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড সফরে গেলে শ্যানন বিমানবন্দরে কনলি তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন। এবারও ট্রাম্পের সফর ঘিরে ডাবলিনে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন সামরিক নীতি, আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং গাজায় ইসরাইলের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সফরের নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।


সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের একীভূত আয়ারল্যান্ডের পক্ষে মন্তব্য নতুন করে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এনেছে। তবে এখনো পর্যন্ত সেখানকার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জনগণের মতামত এবং গুড ফ্রাইডে চুক্তির কাঠামোকেই সামনে রাখা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯