সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের নতুন অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

নিউজটি প্রতিবেদন করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৪৮ সময় , আপডেট সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৪৮ সময়

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের নতুন অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার, বিভিন্ন নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে কমিশন নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি; দুদক জানিয়েছে, বিষয়গুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে।


রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ। তিনি জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি অনুসন্ধান চলছিল। নতুন অভিযোগগুলোও সেই অনুসন্ধানের আওতায় এনে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের তথ্যমতে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ঢাকা ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।


এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র থেকে কমিশন নেওয়া, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের নথি অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।


এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগে ৬৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগের ৬০ কোটি টাকা ধরলে চার নিয়োগে অভিযোগের মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ১৮৭ কোটি টাকা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দরপত্র কার্যক্রমেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।


গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়ানো এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।


সবচেয়ে বড় অভিযোগটি বিদেশে অর্থপাচার নিয়ে। দুদকের নথিতে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। চার দেশে অভিযোগ করা অর্থের পরিমাণ মিলিয়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার কোটি টাকা।


অভিযোগে আসিফ মাহমুদের দুই বোন জামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমেও বিদেশে অর্থপাচারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন এবং পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়, পাঁচ তারকা হোটেলে যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস এবং দামি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।


তবে দুদক স্পষ্ট করেছে, এসব অভিযোগের কোনোটিই এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। নতুন অভিযোগগুলো আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হবে। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদকঃ মো: ফারুক হোসেইন,

এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ ড. আব্দুর রহিম খান,

প্রকাশকঃ মো: মতিউর রহমান।


অফিস :

অফিস : রুপায়ন জেড. আর প্লাজা (৯তলা), প্লট- ৪৬,রোড নং- ৯/এ, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা- ১২০৯।

ইমেইল : info@banglann.com.bd, banglanewsnetwork@gmail.com

মোবাইল : +৮৮ ০২ ২২২২৪৬৯১৮, ০২২২২২৪৬৪৪৯