ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নারায়ণগঞ্জে কর্মস্থলে ফিরছিলেন সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। বাসে ওঠার পরই যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের আচরণে তার সন্দেহ হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি বুঝতে পারেন, এটি কোনো সাধারণ বাস নয়—যাত্রীবেশে থাকা ডাকাত দলের বাসে উঠে পড়েছেন তিনি। এরপর শুরু হয় ভয়াবহ নির্যাতন। মারধরের পাশাপাশি দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ। শেষ পর্যন্ত বিকাশে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তাকে ছাড়েনি ডাকাতরা।
শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভালুকায় একটি কাজ শেষে নারায়ণগঞ্জে ফেরার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন জাহাঙ্গীর। এ সময় সামনে থামা একটি বাসে তিনি উঠে পড়েন। কিছুদূর যাওয়ার পর বুঝতে পারেন, বাসের দুই-তিনজন যাত্রী ছাড়া প্রায় সবাই ডাকাত দলের সদস্য। এরপর কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাদের নির্জন সড়কে নামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু জাহাঙ্গীরকে বাসের ভেতর আটকে রাখা হয়। তাকে মারধর করে পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীর জানান, পরে ছোট ভাইসহ কয়েকজন স্বজনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এনে ডাকাতদের দেন। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও ডাকাতরা আরও অর্থ দাবি করতে থাকে। একপর্যায়ে বাসটি আব্দুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে যেতে শুরু করলে জাহাঙ্গীরের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। তখন তিনি স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে তার ছোট ভাই শাহারুল র্যাবকে খবর দেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাসটির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে র্যাব-১৪।
শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের দিঘারকান্দা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বাসটি থামানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে জাবেল ইকবাল বাদল ওরফে ‘বিহারি বাদল’কে আটক করা হয়। পরে বাসের ভেতর থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে দেশীয় অস্ত্রও।
র্যাব জানায়, জাবেল ইকবাল বাদল ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। বাসটি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল চক্রটি। র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বাসটির গতিবিধি অনুসরণ করে ত্রিশাল ও দিঘারকান্দা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মূলহোতাকে আটক করা গেলেও চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।