যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পর ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে এই চাপের মধ্যেও নতুন কোনো যুদ্ধ বা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়াতে চায় না তেহরান। বরং দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি বাড়ানো, অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং জাতীয় সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, শুধু যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ বন্ধ করাই ইরানের লক্ষ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি চাপের মুখে কিংবা দুর্বল অবস্থান থেকে তেহরান কোনো আলোচনায় বসবে না। ইরানের অবস্থান হবে নিজেদের সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে।
চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সাময়িক একটি চুক্তি হলেও দুই পক্ষ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত জুলাই থেকে নতুন করে যুদ্ধ এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় এবার দেশের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছেন পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ প্রজন্মকে দেশের কঠিন সময়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য পাশে রেখে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের পরিবর্তে বুদ্ধিমত্তা, সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।