মিথ্যা বলা শুধু নৈতিকতার বিষয় নয়, নিয়মিত মিথ্যা বলার অভ্যাস মানুষের মানসিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বারবার মিথ্যা বলতে হলে মস্তিষ্ককে সত্য লুকিয়ে নতুন তথ্য তৈরি এবং সেটি মনে রাখার জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, দৈনন্দিন কথাবার্তায় অনেকেই ছোটখাটো মিথ্যার আশ্রয় নেন। কাউকে কষ্ট না দেওয়া কিংবা কোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কারণ থাকলেও, নিয়মিত এই অভ্যাস মানসিক অস্বস্তি বাড়াতে পারে। মিথ্যা বলার সময় ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়, অপরাধবোধ ও উদ্বেগ তৈরি হলে মস্তিষ্কের আবেগ এবং ভয়-সংক্রান্ত কার্যক্রমও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এর প্রভাব শরীরেও দেখা দিতে পারে। মিথ্যা বলার সময় মানসিক চাপ বেড়ে গেলে শরীরে ‘লড়াই অথবা পালানোর’ প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয়। তখন হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, মুখ শুকিয়ে যাওয়া কিংবা অস্থিরতার মতো সাময়িক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ চলতে থাকলে রক্তচাপসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। মিথ্যার প্রভাব পড়তে পারে পরিপাকতন্ত্রেও। মস্তিষ্ক ও পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে থাকা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মানসিক চাপ অনেক সময় শারীরিক উপসর্গ হিসেবে প্রকাশ পায়। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা অস্বস্তি থেকে পেটে মোচড়, বমি বমি ভাব কিংবা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, নিয়মিত মিথ্যা বলতে থাকলে শুরুতে যে অপরাধবোধ তৈরি হয়, সময়ের সঙ্গে সেটি কমে যেতে পারে। ছোট মিথ্যার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে ধীরে ধীরে বড় ধরনের অসততার প্রতিও মানসিক বাধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মানসিক স্বস্তি ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অপ্রয়োজনীয় মিথ্যা এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন পরিস্থিতিতে সরাসরি মিথ্যা না বলে কৌশলে সত্য প্রকাশ করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা এবং দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক বা মানসিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।